আরও উষ্ণ গ্রীষ্ম এবং খরা দেখতে যাচ্ছে ইউরোপ। বৈশ্বিক হারের চেয়ে গত বছর মহাদেশটি প্রায় দ্বিগুণ উষ্ণ হওয়ায় এই গ্রীষ্মেও বিরুপ পরিস্থিতির পূর্বাভাস জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের।
যার বড় প্রভাব পড়তে যাচ্ছে কৃষিতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্কট জানা সত্ত্বেও তা মোকাবেলায় তেমন কোন প্রস্তুতি নেই।
২০২২ সালে উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল দেখেছিলো ইউরোপ। তীব্র দাবদাহে পুড়েছে আর খরায় ভুগেছে এই অঞ্চলের অনেক দেশ। পুড়ে গেছে ফসল, শুকিয়ে গেছে অনেক নদী।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ ইউরোপে এবার গ্রীষ্মের আগেই প্রকৃতিতে তীব্র খরা তৈরির সব নিয়ামক ভীষণ স্পষ্ট। অনেক অঞ্চলেই পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন কৃষক। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অঞ্চলটি উষ্ণ এবং শুষ্ক হওয়ায়, নেমে যাচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর।
স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো যেমন তিউনিশিয়ার মাটি শুষ্ক হাড়ের রূপ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দেড়শো বছরের তুলনায় ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। ফলে, খরার পুনরাবৃত্তি এবং ব্যাপকতা বাড়বে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, সাহারা এবং ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণাঞ্চলের শুষ্ক আবহাওয়া উত্তরের দিকে যাচ্ছে। ফলে গোটা অঞ্চলের আবহাওয়া আরও শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে।
যার প্রভাব কৃষক, গৃহস্থালি কাজ এবং শিল্প কারখানায় পড়বে। স্পেনে এপ্রিলে গড় যে বৃষ্টি হয়, তার অর্ধেকেরও কম বৃষ্টি হয়েছে এবার।
ট্রাকে করে আসা পানির ওপর নির্ভর করছে হাজারো মানুষ। অনেক কৃষক ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ফসলহানির কথা জানিয়েছেন। খাদ্য শষ্য ও তেলবীজ এই ক্ষতির তালিকায় অন্যতম।
সঙ্কট সামাল দিতে অতি প্রয়োজন ছাড়া পানি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফ্রান্স। পানি ছাড়া কৃষকেরা কাজ করতে পারছে না। ভবিষ্যতে পানি না থাকলে ফসলও থাকবে না।
তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়ার বিরুপ রুপ নিয়ে বহু বছরের পূর্বাভাস সত্ত্বেও তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি যত সামান্য।
আরও পড়ুন: বাড়িতে মোবাইল রেখে লাপাত্তা বিএনপি নেতা চাঁদ!
তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় দুটি বিষয়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাদের। একটি হলো কার্বণ নিঃসরণের হার কমানো।
অন্যদিকে যেহেতু এ উষ্ণ আবহাওয়া চলবে তাই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয়া। বিকল্প হিসেবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পানির অপচয় বন্ধে নির্ভুল সেচ ব্যবস্থা এবং খরা সহায়ক ফসল ফলানো।
একাত্তর/আরবিএস
