রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের বিদ্রোহী পদক্ষেপের সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ক্রেমলিনকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ।
শনিবার প্রিগোজিনের ‘জঘন্য বিশ্বাসঘাতকতা’ নিয়ে টেলিগ্রামে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ বক্তব্যে এ প্রস্তাব দেন এই চেচেন নেতা। খবর: আলজাজিরা।
টেলিগ্রাম পোস্টে ওয়াগনার যোদ্ধাদের উদ্দেশে কাদিরভ বলেন, কী লক্ষ্য আপনাদের দেওয়া হয়েছে, কেমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা কোনও বিষয় নয়। এমন মুহূর্তে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং রুশ সমাজের সম্মিলন সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
ওয়াগনার যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেখুন এই পরিস্থিতির সুবিধা কীভাবে নিচ্ছে আমাদের পশ্চিমা শত্রুরা।
ওয়াগনার প্রধানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এটি হলো প্রিগোজিনের ষড়যন্ত্রমূলক অভিযানের প্রত্যাশিত পরিণতি।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত বক্তব্যে কাদিরভ বলেন, আমি বারবার সতর্ক করেছি যুদ্ধকালে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও বিরোধ সমাধানের সময় নয়। আমাদের সব সময় শান্ত ও নির্ভরযোগ্য হতে হবে। কল্পনা করে দেখুন পরিখায় থাকা সেনারা এখন কেমন অনুভব করছে, যারা শত্রুর মোকাবিলা করছে। অথচ দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা স্থিতিশীলতার কথা বলছি, আমরা রাষ্ট্রের ঐক্যের কথা বলছি। আমরা নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা বলছি।
কাদিরভ আরও বলেন, আমাদের সুপ্রিম কমান্ডার-ইন-চিফ রয়েছেন। তিনি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত। তিনি পুরো পরিস্থিতি থেকে শুরু করে ছোট বিষয় সম্পর্কেও যেকোনো কৌশলবিদের তুলনায় ভালো করেই জানেন।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া পুতিনের ভাষণের কথা তুলে ধরে চেচেন নেতা বলেছেন, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পুতিন সঠিকভাবে উল্লেখ করেছেন, এটি একটি সামরিক বিদ্রোহ। এমন পদক্ষেপের কোনও অজুহাত থাকতে পারে না। তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে পুরোপুরি সমর্থন করেন বলেও ঘোষণা দেন।
তিনি আরও বলেছেন, যা ঘটছে তা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি কোনও আল্টিমেটাম নয়। এটি রাষ্ট্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ, এটি জাতীয় নেতার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। এটি সেনাবাহিনী, নিরাপত্তাবাহিনী, গভর্নর ও বেসামরিকদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ।
চেচেন নেতা বলেছেন, এই বিদ্রোহকে অবশ্যই দমন করতে হবে। এজন্য যদি কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয় তাহলে আমরা প্রস্তুত।
ওয়াগনার যোদ্ধাদের ওপর রুশ সেনারা হামলা চালিয়েছে অভিযোগ তুলে শুক্রবার রাতে রুশ সামরিক নেতৃত্ব উৎখাত করার ঘোষণা দেন ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিন। এরপরই তিনি বাহিনী নিয়ে ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় প্রবেশ করে রোস্তভ শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
একাত্তর/জো
