প্রায় ৯ মাস ধরে আলোচনা-পর্যালোচনা ও যাচাইয়ের পর অবশেষে পাকিস্তানকে ৩০০ কোটি ডলার জরুরি ঋণ দিতে রাজি হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ।
কর্মকর্তা পর্যায়ের এই চুক্তিটি আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদে অনুমোদিত হতে হবে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি তারা এই আবেদন বিবেচনা করতে পারে বলে বৃহস্পতিবার আইএমএফের এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিবিসি বলছে, আইএমএফের ঋণের ফলে পাকিস্তান কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দেশটি অর্থসংকটে ধুকছে। পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমতে কমতে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গত এক বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি মুদ্রা রুপির মূল্য প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে।
আইএমএফের এই ঋণের জন্য পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষায় ছিল। ১৯৪৭ সালের ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতার পর এর চেয়ে বড় সংকটে আর পড়েনি দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি।
সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে আটকে থাকা এই চুক্তি পাকিস্তানকে তাদের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় ২২ কোটি মার্কিন ডলারে প্রবেশাধিকার দেবে এবং ঋণদাতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ ও দেশের ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কমাবে।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানের পরিস্থিতি গত বছরের বন্যায় আরও শোচনীয় হয়েছে। দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাওয়া দেশটির অনেক পরিবারকে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুর দিককার রাজনৈতিক অস্থিরতাও দেশটির ঋণ পাওয়াকে জটিল করে তোলে। দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা দেখা দেয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আমলে ২০১৯ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৬৫০ কোটি ডলারের দীর্ঘমেয়াদী ঋণের চুক্তি করেছিল পাকিস্তান। সেই অনুযায়ী ঋণের কয়েকটি কিস্তিও এসেছিল দেশটিতে। চুক্তিতে পাকিস্তানকে জ্বালানি পণ্যের ওপর ভর্তুকি প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছিল আইএমএফ।
আরও পড়ুন: ভারতে বাসে আগুন লেগে ২৫ জনের মৃত্যু
কিন্তু ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই শর্ত মানতে রাজি না হওয়ায় ঋণের কিস্তি স্থগিত করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
আশা করা হচ্ছে, আইএমএফের এই ঋণে এবার পাকিস্তান তার দুর্বল অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে তুলতে পারবে।
একাত্তর/আরএ
