রাশিয়ার ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনার গ্রুপ পোল্যান্ড আক্রমণের জন্য বেলারুশকে চাপ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো।
দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে এক বৈঠকে এ কথা জানান লুকাশেঙ্কো।
লুকাশেঙ্কো বলেন, ওয়াগনার বাহিনী আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তারা বলছে, "আমরা পশ্চিমে যেতে চাই।"
তিনি আরও বলেন, আমি তাদের জিজ্ঞাসা করলাম আপনারা কেন পশ্চিমে যেতে চান? উত্তরে ওয়াগনার বলেছে, তারা পোল্যান্ডের ওয়ারশ, রেজেসোতে যেতে চাই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লুকাশেঙ্কো এসব কথাবার্তার মাধ্যমে পোল্যান্ডকে এক ধরনের সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। কারণ, সম্প্রতি পোল্যান্ড তার সীমান্তে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। বেলারুশ বিষয়টিকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছে। পাশপাশি ইউক্রেনকে বড় আকারের সামরিক ও অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে পোল্যান্ড।
এর আগে শুক্রবার রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্যদের বৈঠকে ইউক্রেন ও বেলারুশের প্রতিবেশী পোল্যান্ডকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
পুতিন অভিযোগ করেছেন, পোল্যান্ড বেলারুশ নিয়ে আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, বেলারুশের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন রাশিয়ার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সে অনুযায়ী রাশিয়া পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এটি সবারই জানা যে, পোল্যান্ড বেলারুশের অঞ্চল দখল করার স্বপ্ন দেখে। তবে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে রুশ প্রেসিডেন্টের এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলছে পোল্যান্ড।

রোববার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিন ও লুকাশেঙ্কো
এর আগে গেলো ২৩ জুন রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ওয়াগনার গ্রুপ। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ওয়াগনারের নেতা ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে এই বিদ্রোহের উদ্ভব হয়েছিল।
আরও পড়ুন: দানিয়ুব নদীবন্দরে ইউক্রেনীয় শস্য গুদামে রুশ ড্রোন হামলা
বিদ্রোহ ঘোষণার পরপরই ওয়াগনার বাহিনী ইউক্রেন সীমান্ত লাগোয়া রাশিয়ার রোস্তভ-অন-ডন শহরের দখল নিয়েছিল। ওই এলাকা থেকে মস্কোর দূরত্ব প্রায় হাজার কিলোমিটার। এরপর গ্রুপটি মস্কোর দিকে আরও কয়েকশ' কিলোমিটার এগিয়ে যায়। পরে আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় ওয়াগনার যোদ্ধারা তাদের অগ্রযাত্রা বন্ধ করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে ঘাঁটিতে ফিরে যেতে রাজি হয়।
বর্তমানে কয়েক হাজার ওয়াগনার সেনা বেলারুশে অবস্থান করছে। ওয়াগনারের সঙ্গে বেলারুশ সরকারের একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। চুক্তিতে ওয়াগনার বাহিনী বেলারুশের সেনাদের প্রশিক্ষণ দেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
