বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটা কমে এলেও, ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বাড়ছে নতুন ভ্যারিয়েন্ট এরিস-এ আক্রান্তের সংখ্যা। এই অবস্থায় আগামী মাসে বাজারে আসতে চলেছে ভাইরাসটির নতুন টিকা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লেও নতুন এই টিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন একটা মাতামাতি হবে না। তবে আমেরিকানরা ফ্লু'র টিকার মতো এই টিকাকে গ্রহণ করবে বলে আশা তাদের।
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা আগামী মাসে নতুন এই টিকা বাজারজাত করা শুরু করবে, যা গত বছর থেকে প্রভাব বিস্তার করা ওমিক্রন সংস্করণের সাথে লড়াই করার জন্য আপডেট করা হয়েছে।
সোমবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না ও নোভাভ্যাক্স সকলেই ওমিক্রনের আরেকটি ভ্যারিয়েন্ট এক্সবিবি.১.৫ মোকাবেলা করতে তাদের ভ্যাকসিনের নতুন সংস্করণ তৈরি করেছে।
এরিস বা ইজি.৫ ভ্যারিয়েন্টটি এক্সবিবি.১.৫ এর অনুরূপ, যদিও এটির স্পাইক প্রোটিনে একটি মিউটেশন রয়েছে। এই স্পাইক প্রোটিনকে আক্রমণ করাই টিকার লক্ষ্য।
কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন সার্ভে মেথডলজির ডিরেক্টর অ্যাশলে কিরজিঙ্গার বলেছেন, এই টিকা করোনাভাইরাস সম্পর্কে ক্রমহ্রাসমান উদ্বেগ, সেইসাথে এই ভ্যাকসিনের গুণাগুণ সম্পর্কে ক্লান্তি এবং সংশয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা যদি চান যে বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্করা এই বার্ষিক ভ্যাকসিন পায়, তাহলে তাদের আমেরিকান জনসাধারণের কাছে এই বিষয়টি জানাতে হবে যে কোভিড শেষ হয়নি এবং এটি এখনও তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
এই বছরের শুরুতে কেএফএফ-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি বছর টিকা নিতে অনীহার পেছনে শীর্ষ কারণ হলো আগের নেয়া টিকা বা সংক্রমণ মানুষকে ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেবে, এমন বিশ্বাস।
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নির্মাতারা এই শরতের টিকাকরণ অভিযানের প্রত্যাশা কমিয়ে দিয়েছে। এমআরএনএ ভ্যাকসিনের সবচেয়ে বড় উৎপাদক ফাইজার-বায়োএনটেক সম্প্রতি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এবার বিক্রি ভাল না হলে অনেককে চাকরি হারাতে হতে পারে।
আরও পড়ুন: মরক্কোতে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালো তাপমাত্রা
তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মডার্না স্বীকার করেছে যে চাহিদা পাঁচ কোটিতে নেমে আসতে পারে। যেখানে গত বছর ফাইজার ও মডার্না মিলে পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের ব্যবসা করেছিল।
গত মে মাসে কোভিড নিয়ে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা তুলে নেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
একাত্তর/এসজে
