লাইসেন্স প্লেটের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে জোড় বা বিজোড়, দিনে যে কোনো এক প্রকার রেজিস্ট্রেশন নম্বরের গাড়ি রাস্তায় নামার অনুমতি দেবে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি।
শহরটিতে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ মোকাবিলায় ১৩ নভেম্বর থেকে এক সপ্তাহের জন্য এই ব্যবস্থা চালু থাকবে। ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণি ব্যতীত স্কুলগুলোতে সশরীরে ক্লাস স্থগিত রয়েছে।
শীত নামার আগেই শহর ঢেকে গেছে ধুলার আস্তরে। স্বস্তিতে একদণ্ড নিশ্বাস নেয়ার অবস্থা নেই দিল্লির রাস্তায়। সামান্য দূরে থাকা গাড়িও অস্পষ্ট দেখায়, বাতাসের পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ।
দূষিত বায়ুতে শ্বাসকষ্ট এবং চোখের সমস্যা বাড়ছে বাসিন্দাদের। রোগীদের মধ্যে বয়স্ক ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। সাধারণ শ্বাসপ্রশ্বাসে দিল্লিবাসীর খুবই কষ্ট হচ্ছে। শীতকাল চলে আসলে এ কষ্ট বাড়তেই থাকবে।
প্রতি বছর অক্টোবরের শেষের দিক থেকে বায়ুদূষণ শুরু হয় দিল্লিতে। এই দূষণের প্রধান কারণ দিল্লির পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে শীতকালে বিপুল পরিমাণ খড়-বিচুলি পোড়ানো হয়।
সেখান থেকেও অতিক্ষুদ্র বিভিন্ন বস্তুকণা ভেসে আসে দিল্লির বাতাসে। এ বিষয়ে জানা সত্ত্বেও এ বছরও শুকনো ক্ষেতে আগুন দিয়ে পোড়াতে শুরু করেছে কৃষকেরা।
তারা বলেন, ফসলের মুড়া মাটিচাপা দেয়ার চেয়ে পুড়িয়ে ফেললে পরিশ্রম আর খরচ কম হয়। পোড়ালে জমিরও ক্ষতি হয়। কিন্তু কৃষকদের বাড়তি খরচের সামর্থ্য নেই। তাই আমরা খড় পোড়াতে বাধ্য হই।
দূষণ রোধে কয়েকদিন থেকেই দিল্লির রাস্তা, সেতু এবং বিদ্যুৎ লাইনের মতো পাবলিক প্রকল্পগুলোসহ নির্মাণ কাজ স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণী ব্যতীত স্কুলগুলোতে সশরীরে ক্লাস স্থগিত রয়েছে। এবার ১৩ নভেম্বর থেকে এক সপ্তাহ দিল্লির রাস্তায় গাড়ি চলবে নতুন নিয়মে।
দিল্লির পরিবেশ মন্ত্রী গোপাল রাই জানিয়েছেন লাইসেন্স প্লেটের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে জোড় বা বিজোড়, দিনে যে কোনো এক প্রকার রেজিস্ট্রেশন নম্বরের গাড়ি রাস্তায় নামার অনুমতি দেয়া হবে।
তিনি বলেন, দিওয়ালির সময় শহরে দূষণের মাত্রা বাড়তে পারে। সেটি নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় জোড়, বিজোড় ভিত্তিতে গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে। ১৩-২০ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিয়মে সব গাড়ি চলবে।
রাস্তায় এই রেশনিং ব্যবস্থা চালু হলে দূষণ কিছুটা হলেও কমতে পারে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তবে, স্থায়ী সমাধানের জন্য গ্রামে খড় পোড়ানো বন্ধেও সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে দিল্লিবাসী।
দিল্লির পর মারাত্মক দূষণে বিপর্যস্ত লাহোরও