ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ৮৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এসময় বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি শত শত ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
গাজাভিত্তিক সুপ্রিম কাউন্সিল ফর স্পোর্টসের বরাতে শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সুপ্রিম কাউন্সিল ফর স্পোর্টস বলেছে, শত শত ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ হত্যার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরাইলকে জবাবদিহি করতে হবে।
সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজার একাধিক স্টেডিয়াম এবং স্পোর্টস ক্লাবে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। হত্যার পাশাপাশি আটক করা হয়েছে বহু ক্রীড়াবিদকে। তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। স্টেডিয়াম এবং স্পোর্টস ক্লাবগুলোকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কেন্দ্রে পরিণত করেছে ইসরাইলি সেনারা।
গাজা শহরের ইয়ারমুক স্টেডিয়ামের উদাহরণ টেনে কাউন্সিল ফর স্পোর্টস বলেছে, সেখানে অনেক ফিলিস্তিনিকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। যা সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধ।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, গাজার একটি স্টেডিয়ামে শত শত ফিলিস্তিনিকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় বসিয়ে রেখেছে ইসরাইলি সেনারা। ভিডিওতে একাধিক শিশুকেও দেখা গেছে। শরীর তল্লাশির নামে তাদের মারধরও করেছে দখলদার সেনারা। নির্যাতনে অনেক ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা এবং ফেডারেশনসহ বিশ্বের সমস্ত দেশের প্রতি আহবান জানিয়েছে গাজা কর্তৃপক্ষ।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ফিলিস্তিন অলিম্পিক কমিটি এক বিবৃতিতে জানায়, গাজায় কমপক্ষে ৪৭ জন ক্রীড়াবিদকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
নিহতদের মধ্যে ছয় বছর বয়সী কারাতে খেলোয়াড় ইয়াসমিন শরফও রয়েছে। ফিলিস্তিনের হয়ে একদিন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করবে, এমনই স্বপ্ন ছিলো ইয়াসমিনের।
সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজায় জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) স্টেডিয়াম, বেইট হানুন স্টেডিয়াম, তিনটি অশ্বারোহী ক্লাব, একটি বেসবল মাঠ ও বেশ কয়েকটি মার্শাল আর্ট সেন্টারসহ অসংখ্য ক্রীড়া সুবিধা ধ্বংস করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলি হামলায় আরও ১৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত