মধ্যপ্রাচ্যের কসাই হিসাবে পরিচিত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে তার কাছের লোকজন ডাকেন বিবি বলে। এটি হলো তার ডাক নাম। অনেক দেশের মতোই ইসরাইলে ডাক নামের প্রচলন আছে। কট্টর জয়েনবাদি হিসাবে একটা সময় এই বিবি ছিলেন ইসরাইলিদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় এক নেতা। কিন্তু পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।
এখন ‘বিবি’ নাম মুখে আনতে চান না ইসরাইলিরা। একশ’ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কার্যত কোন কিছুই অর্জন করতে পারেনি। একজন জিম্মিকেও জীবিত উদ্ধার করে দেখাতে পারেনি দেশটির বিলিয়ন ডলারের সেনা বাহিনী, হায়েনা হিসাবে খ্যাত আইডিএফ।
হামাসের গেরিলা যুদ্ধ কৌশলের সঙ্গে প্রতিদিনই মার খাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। হতাহত হচ্ছে হাজার হাজার। যারা বেঁচে ফিরছেন, তাদের বরণ করতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব, না হয় আক্রান্ত হচ্ছে মানসিক রোগে। সব মিলিয়ে বড় চাপে আছেন নেতানিয়াহু, তার উগ্র দেশপ্রেমের টনিক জলে গেছে, জনপ্রিয়তা ঠেকেছে তলানিতে।
ইসরাইলের ভেতরে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে বেশ কিছুদিন ধরে। ২০২৩ সালেই বিবি’র প্রতি অনাস্থা জানিয়ে অভুতপূর্ব গণবিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন দেশটির লক্ষ লক্ষ মানুষ। ফলে হামাসের আক্রমণের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সেই দেশেরই বহু মানুষ।

হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের পরিণতি হয়েছে ভয়ঙ্কর। যুদ্ধ থামার বদলে প্রসারিত হচ্ছে। হুমকি, তর্জন-গর্জনের সীমানা পেরিয়ে অন্যান্য দেশ এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার আগের মুহুর্তে পৌঁছে গেছে। ইতিমধ্যেই সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে ইরান। নড়ানড়া করতে শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও।
এই আবহে ‘ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংস্থা দেশ জুড়ে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তার সবশেষ অবস্থা জানতে নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায় জানুয়ারির দুই তারিখ। সেখানে দেখা যায় ‘লৌহকঠিন’, ‘দেশরক্ষক’ বিবিকে এখনও শাসক হিসেবে দেখতে চাইছেন মাত্র ১৫ শতাংশ ইসরাইলি।
বিবির জনপ্রিয়তা কমে যাবার আরও এক কারণ আছে। ২০২২ সালের ৭ অক্টোবর প্রকাশ হয় নেতানিয়াহুর আত্মজীবনী। সেখানে তিনি এক দশক ধরে গড়ে তোলা হামাসের অতর্কিত আক্রমণের একটি পরিকল্পনার কথা ফাঁস করেন। প্রধানমন্ত্রী জানতেন, কিন্তু এমন আক্রমণের কথা জানতেন না সে দেশের গোয়েন্দারা।
অথচ ১ বছর পর ঠিকই হামাস অতর্কিত হামলা চালায় ইসরাইলে। প্রশ্ন ওঠে দেশটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। আওয়াজ ওঠে নেতানিয়াহুর অপসারণের। যথারীতি ‘দেশের রক্ষক’ হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তোলা ‘বিবি’ প্রতি আক্রমণে ‘খতম’ করে দেন ২৬ হাজার ফিলিস্তিনি, যাদের সিংহভাগই বেসামরিক।
অথচ চিত্রটি ভিন্ন হবার কথা, কারণ এখন দেশপ্রেমের জোয়ার তুঙ্গে থাকার কথা। তাহলে কি জনপ্রিয়তা ফিরে পাবার জন্য যুদ্ধ আর তেমন ‘রক্ষাকবচ’ হয়ে উঠতে পারছে না দেশ নেতাদের। সময় এ প্রশ্নের উত্তর দেবে, তবে ‘বিবি’র ক্ষেত্রে যে চাকা উল্টোদিকে ঘুরেছে সেটা সমীক্ষায় স্পষ্ট।
