দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার দায়ে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী চার ইসরাইলির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে ‘ভোট ব্যাংক’ ধরে রাখতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিতে অনুমোদন দিয়ে এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। খবর আল জাজিরার।
নিষেধাজ্ঞা পাওয়া চার ইসরাইলি হলেন- ডেভিড চাই চাসদাই, আইনান তানজিল, শালোম জিকারম্যান ও ইয়িনন লেভি।
জানা গেছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ওই চার ইসরাইলি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের সম্পত্তি ও দেশটির আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলি নাগরিকদের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বিরল ঘটনা। তবে এর সঙ্গে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের যোগসূত্র রয়েছে।

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বাইডেনের সফরের সময় এলো এ ঘোষণা। অঙ্গরাজ্যটিতে আরব–মার্কিন জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বসবাস করে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করতে আরব ভোটারের ভোটের প্রয়োজন হবে বাইডেনের। আর এ কারণেই এমন কৌশল নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে জায়নবাদীদের সহিংসতা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রতি আরব–মার্কিনিদের সমর্থন ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২০ সালে ৫৯ শতাংশ ছিলো।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার আদেশে বাইডেন সই করার পরপরই এ বিষয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরাইল।
নেতানিয়াহু সরকার বলছে, পশ্চিম তীরে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয় ইসরাইল। তাই এ বিষয়ে কারও অস্বাভাবিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজায় গেলো চার মাসে ইসরাইলি আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতি নির্লজ্জ সমর্থন দিয়ে আসছে বাইডেন প্রশাসন। সেখান মাত্র চারজন ইসরাইলির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্রেফ লোক দেখানো, এমনটাও বলছেন বিশ্লেষকরা।
