রাশিয়ার বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির মৃতদেহ আর্কটিক কারাগার থেকে উদ্ধার করতে পারেনি তার স্বজনেরা। কারা কর্তৃপক্ষের বলা মর্গে গিয়ে নাভালনির মা ও তার পরিবার সেখানে তার মৃতদেহ পাননি এবং পরে জানতে পারে তার মৃতদেহ সরিয়ে নিয়েছে অন্য স্থানে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তার মা'কে বলা হয়েছিলো ময়নাতদন্তের পরীক্ষা শেষ হলেই তার লাশ হস্তান্তর করা হবে।
শুক্রবার আর্কটিক সার্কেলের উত্তরে একটি কারাগারে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে বলে রুশ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়। কিন্তু এখনও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলেনি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নাভালনির মুখপাত্র কিরা ইয়ারমিশ অভিযোগ করেন হত্যার প্রমাণ গায়েব করতে এই নেতার মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনই নাভালনিকে মেরে ফেলার আদেশ দিয়েছে। আমরা নিশ্চিতভাবেই জানি এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তারা এখন হত্যার প্রমাণ লোপাট করতে চাইছে। যে কারণে তারা পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করছে না। তারা নাভালনির মরদেহ লুকিয়ে রাখছে।
এর আগে ২০২০ সালের আগস্টে সাইবেরিয়ায় তাকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। ক্রেমলিন তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। সেসময় রুশ কর্তৃপক্ষ বলেছিল, তাকে নার্ভ এজেন্ট দিয়ে বিষপ্রয়োগের কোনো প্রমাণ নেই।
গত এক দশকে রাশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী নেতা ছিলেন অ্যালেক্সেই নাভালনি। দেশটির রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে কট্টর সমালোচক হিসেবে দেখা হতো তাকে। পুতিন ও ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি আন্দোলন করে আসছিলেন। যার ফলস্বরূপ রাশিয়ার একটি আদালত তাকে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলো। গত বছরের শেষের দিকে নাভালনিকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর কারাগার হিসেবে পরিচিত আর্কটিক পেনাল কলোনিগুলোর একটিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ৪৭ বছর ছিলো।
নাভালনির মৃত্যুতে ক্ষিপ্ত রাশিয়ার জনগণরা। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোকে ঘিরে ইতিমধ্যে ৩০০ রাশিয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সরকার।
ইসরাইলের ৬০ সংস্থাকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করলো আরব লীগ