দিল্লির জামে মসজিদ শুধু ভারতেরই নয়, পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত ধর্মীয় স্থাপনা। দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ দেখতে আসেন শাহজাহানের তৈরি এই বিশাল স্থাপত্য। ১৬৫০ থেকে ১৬৫৬ সালের মধ্যে মোগল সম্রাট শাহজাহান তৈরি এই বিশাল মসজিদ নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ১০ লাখ টাকা।
দিল্লি মসজিদের উদ্বোধন করতে সেই সময়ে উজবেকিস্তান থেকে এসেছিলেন ইমাম সৈয়দ আব্দুল গফুর শাহ বুখারি। মসজিদের সামনের প্রকাণ্ড চাতালে একসঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদের ইমাম সেই শুরু থেকেই মুসলিমদের কাছে বিশেষ মুরুব্বির মর্যাদা পেয়ে আসছেন।
দিল্লির ঐতিহ্যবাহী এই জামে মসজিদ পেলো নতুন এক ইমাম। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের আমলে নির্মিত এই মসজিদের নতুন ইমাম নিযুক্ত হয়েছেন এখানকার নায়েব ইমাম সৈয়দ উসামা শাবান বুখারি। রোববার শবে বরাতে এশার নামাজের পর দস্তরবন্দী বা মাথায় পাগড়ি পরিয়ে নতুন ইমামকে বরণ করে নেয়া হয়।
এ সময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নামীদামী ব্যক্তি, ইমাম, বন্ধু-বান্ধব, স্বজন ও পরিবারের অনেকে উপস্থিত ছিলেন। নতুন ইমাম সৈয়দ উসামা শাবান বুখারি জামে মসজিদের বর্তমান শাহী ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারির ছেলে। নিয়ম অনুযায়ী, বংশপরম্পরায় দিল্লি জামে মসজিদের শাহী ইমাম মনোনীত হয়ে থাকে।
দায়িত্বরত ইমাম জীবিত অবস্থায় উত্তরসূরি ঘোষণা করে যান। সেই ঐতিহ্য মেনেই শবে বরাতের সন্ধ্যায় ছেলে সৈয়দ উসামা শাবান বুখারিকে উত্তরসূরি ঘোষণা করেন বর্তমান শাহী ইমাম। সেই হিসেবে সৈয়দ উসামা শাবান বুখারি হলেন মসজিদের চতুর্দশ শাহী ইমাম।
শাহী ইমাম আহমেদ এ সম্পর্কে বলেন, দিল্লির জামে মসজিদের প্রথা ও ঐতিহ্য হলো- ইমাম তার জীবদ্দশায় তার ছেলেকে তার উত্তরাধিকারী করে যান। দস্তরবন্দী অনুষ্ঠানে তার মাথায় পাগড়ি বেঁধে সেই আনুষ্ঠানিকতা সেরে নেয়া হয়। সেই প্রথা মেনে ছেলে সৈয়দ উসামা শাবান বুখারিকে তার উত্তরসূরি নিয়োগ করলেন।
নতুন ইমাম উসামা শাবান অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্মে স্নাতক। ইসলামী ধর্মতত্ত্বে একজন আলিম ও ফাজিল। তিনি দিল্লির মাদরাসা জামিয়া আরাবিয়া শামসুল উলুম থেকে ইসলাম বিষয়ে পড়াশুনা শেষ করার পর ২০১৪ সালে নায়েবে ইমাম নিযুক্ত হন। তখনই বলা হয়েছিলো তিনিই হবেন পরবর্তী ইমাম।
দিল্লি জামে মসজিদের প্রথম শাহী ইমাম ছিলেন সৈয়দ আবদুল গফুর শাহ বুখারি। সম্রাট শাহজাহান তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইতিহাসের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, সম্রাট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে একই পরিবার থেকে বংশ পরম্পরায় ইমাম নিযুক্ত অব্যাহত থাকবে। সেই প্রথাই এখনও মেনে চলা হচ্ছে।
হামাসের টেবিলে আরেকটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব