সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ডালির সজোরে ধাক্কায় ভেঙ্গে খান খান নদীতে পড়েছে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর শহরের আইকনিক ‘ফ্রান্সিস স্কট কি’ সেতু। প্রকৌশলীরা জানাচ্ছেন, যেভাবে ভেঙ্গে পড়েছে সেতু তাতে করি পুনর্নির্মাণের কাজটা সহজ হবে না। এমন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটিয়েও জাহাজটির পাইলটসহ ২২ জন নাবিককে ‘হিরো’ বা নায়ক হিসাবে উল্লেখ করেছেন বাল্টিমোর শহরের মেয়র।
সোমবার স্থানীয় সময় দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর শহরের ফ্রান্সিস স্কট নামক একটি সেতুতে সজোরে ধাক্কা মারে কন্টেনার বোঝাই জাহাজ। ধাক্কায় দুই টুকরো হয়ে যায় বিরাট সেতুটি। পানিতে পড়ে যায় সেতুতে থাকা গাড়ি। দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গেছে, যে জাহাজটি ধাক্কা মেরেছে বাল্টিমোর ব্রিজে, তাতে সব ক্রু সদস্যই ভারতীয়। দুর্ঘটনায় তারা কেউই আহত হননি।
জাহাজটির মালিক কোম্পানি জানিয়েছে, ব্রিজে সংঘর্ষের আগেই বিপদ বুঝে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল জাহাজ থেকে। সেই বার্তা পেয়েই, সেতুতে নতুন করে আর গাড়ি উঠতে দেওয়া হয়নি, যে কারণে ক্ষয়ক্ষতি সামান্য হয়েছে। যদি জাহাজটি আগে না জানাতো, তবে বহু মানুষের প্রাণহানি হতে পারতো। ভারতীয় ক্রুদের এমন তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তার জন্যই মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর তাঁদের ‘হিরো’ অ্যাখ্য়া দেন।

জাহাজের ক্যাপ্টেন জানান, সেতুর সঙ্গে ধাক্কা না লাগার জন্য সব কিছুই করেছেন তারা। ক্রুদেরকে বলা হয় জাহাজটিকে বন্দরের কাছে নিয়ে যেতে এবং নোঙর ফেলে দিতে। ক্যাপ্টেনের কাছে আর কোনো উপায় ছিলো না। স্থানীয় সময় রাত দেড়টার কিছু আগে তারা একটি ‘সাহায্যের বার্তা’ জারি করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে যে, একটি সংঘর্ষ হতে চলেছে।
সঙ্গে সঙ্গে মেরিল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির একজন কর্মকর্তা ওই দিকের সব ট্র্যাফিক বন্ধ করে দেন। তিনি রেডিও ট্র্যাফিকে বলেন, একটি নিয়ন্ত্রণহীন জাহাজ এগিয়ে আসছে। জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ না আসা পর্যন্ত, সব ট্র্যাফিক বন্ধ করে দিতে হবে। মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর ক্রুদেরকে ‘হিরো’ হিসাবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, তাদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া অনেক জীবন বাঁচিয়েছে আজ।
মেয়র জানান, জাহাজ থেকে পাঠানো জরুরি বার্তা ও সংঘর্ষের মধ্যে ব্যবধান ছিলো মাত্র দুই মিনিটের। তবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেও সেতুতে সব যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলো ট্র্যাফিক বিভাগ। না হলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিলো। ক্রুদের সব প্রচেষ্টাতেও ডালিকে থামেনি। এক দশমিক পাঁচ মাইলের সেতুর কংক্রিটের পিলারে আছড়ে পড়ে জাহাজটি। নিমিষে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় বাল্টিমোর সেতু।

ভেঙে পড়ার আগে জাহাজটি আগুন ধরে যেতেও দেখা যায়। সেতু ভেঙে পড়ায় একাধিক গাড়ি পাতাপস্কো নদীতে পড়ে যায়। সেতুর ভেঙ্গে পরার সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি পানিতে পরে যায়। দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেতুর পিলারে মেরামতের কাজ করছিলেন, এমন ছয়জনের এখনও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের সলিল সমাধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে দেহ উদ্ধারে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
মার্কিন কোস্টগার্ড কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শ্যানন গিলরেথ জানিয়েছেন, সেতু ভেঙে পড়ায় ঘটনায় যে ছয় জন নিঁখোজ রয়েছেন, তাঁদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ হিসাবে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, নিঁখোজ হওয়ার সময়ে পানির স্রোত খুবই বেশি ছিলো। ফলে তাঁদের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রবল।
