লিঙ্গ সমতার জন্য সুইডেনের বিশ্বব্যাপী খ্যাতি রয়েছে। আর সেই দেশেই অল্পবয়সী নারীরা কেন কাজ ছেড়ে দিয়ে সংসারে মনযোগী হচ্ছেন? দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে চলছে কাজ ছেড়ে সরকার করার প্রচারণা। আর, তাতে সাড়াও দিচ্ছেন সুইডিশ নারীরা। কাজ ছেড়ে দেয়া উদযাপনও করছেন।
২৫ বছরের ভিলমা লারসন আগে একটি গ্রোসারি শপে, একটি কেয়ার হোম এবং একটি কারখানায় চাকরির অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু তিনি এক বছর আগে বাড়িতে থেকে তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সংসার করার জন্য কাজ ছেড়ে দেন। ভিলমা জানাচ্ছেন, তিনি আগে কখনই সুখী ছিলেন না। সব সময় টেনশনে থাকতেন।
তিনি বলেন, কাজ ছেড়ে দেয়ার পর তার জীবনই পাল্টে গেছে। আগের চেয়ে তার জীবন এখন অনেক বেশি সরল আর সহজ। ভিলমার ভাষায়, এখন আর আমাকে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হয় না। আমাকে কোন কিছু নিয়ে এখন খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না। ঘর নিয়ে আমার সুন্দর সময় কেটে যাচ্ছে।

ভিলমার বয়ফ্রেন্ড বাসা থেকেই কাজ করেন। ফিনান্স নিয়ে কাজ করেন তিনি। যখন সে তার ল্যাপটপে তার দিন কাটায়, তখন ভিলমা জিমে, কফি বা রান্না করার জন্য বাজার করতে বাইরে যান। দম্পতি মধ্য সুইডেনের ছোট শহরে বেড়ে উঠলেও এখন অনেক ভ্রমণ করেন এবং বর্তমানে সাইপ্রাসে শীতকাল কাটাচ্ছেন।
ভিলমা লারসন বলেন, প্রতি মাসেই বয়ফ্রেন্ড তার উপার্জনের টাকা থেকে আমাকে বেতন দেয়। তবে, যদি আমার আরও প্রয়োজন হয়, তখন তার কাছ থেকে চেয়ে নেই। অথবা যদি আমার কম প্রয়োজন হয়, তখন সেটা ফেরত না দিয়ে নিজের জন্য সঞ্চয় করি। সেখান থেকে অনেকে শখও মেটানো হয়।
ভিলমা তার প্রতিদিনের যাপিত জীবন তার ইনিস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টিকটকে চ্যানেলে শেয়ার করছেন। এরি মধ্যেই তার ১১ হাজারের বেশি মানুষ অনুসরণ করছেন। তার কিছু পোস্টে প্রায় চার লাখ লাইক রয়েছে, যদিও তিনি বলেছেন যে তিনি তার এসব পোস্ট থেকে এখন আয় করছেন না।

তিনি হ্যাশট্যাগগুলো সুইডিশ ভাষায় ‘বাসায় থাকা বান্ধবী’ এবং ‘গৃহিণীর জন্য সুইডিশ’ ব্যবহার করেন এবং নিজেকে এখন শান্তশিষ্ট ‘নরম’ মেয়ে হিসাবে বর্ণনা করে থাকেন। এটি এমন এক পরিচয় বহন করছে, যা কর্মজীবন ছেড়ে একজন নারীর আরও মেয়েলি জীবনযাপনকে উৎসাহিত করে থাকে।
২০১০ এর দশকের শেষের দিক থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে সামাজিক মাধ্যমে নারীদের মধ্যে কর্মজীবনের পরিবর্তে সংসারি মেয়ের জীবনধারার একটি ট্রেন্ড শুরু হয়। সুইডেনে দ্বৈত আয়ের পরিবারকে উৎসাহিত করার জন্য পাঁচ দশকের নীতিগুলোর সাথে বর্তমান ধারণাটি বিষ্ময় ও বিভাজন উভয়ই ছড়িয়ে দিয়েছে।
সুইডেনে যুব সম্প্রদায়ের সবচেয়ে জরিপেও দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ‘গৃহিনী’ নারী একটি জনপ্রিয় পছন্দ। গেল আগস্টে প্রকাশিত আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, সুইডেনের অল্পবয়সী মেয়েদেরও মধ্যেও ঘরকন্যার হবার প্রবনতা বাড়ছে।

সুইডিনের সমাজ গবেষক জোহানা গোরানসন বলেন, বিভিন্ন পেশায় নেতৃত্ব দেয়ার ধারণা থেকে নারীরা এখন সরে আসছেন। কারণ তারা দেখতে পেয়েছেন, কর্মজীবনে সাফল্যের জন্য তাদেরকে উচ্চ চাহিদা মোকাবেলা করতে হয়েছে। চাহিদা পূরণের চ্যালেঞ্জ নারীদের বাইরের কাজে বিমুখ করছে।
এখন পর্যন্ত কতজন মেয়ে কাজ ছেড়ে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সংসার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান সুইডেনে নেই। তবে, গবেষক জোহানা মনে করে সংখ্যাটি খুবই কম হবে। কিন্তু তবুও এটি সুইডেনে একটি প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
