দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগ

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:৪৬ পিএম

সামরিক আইন জারির করায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে তদন্তে নেমেছে দেশটির পুলিশ। যে দুই অপরাধে দেশটির প্রেসিডেন্ট অভিসংশন হতে পারে, তার মধ্যে একটি হলো বিদ্রোহ। গুরুতর এই অপরাধ প্রমাণ হলো সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। খবর বিবিসি। 

তবে দক্ষিণ কোরিয়াতে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যে কোন তদন্ত কাজই বেশ কঠিন। কারা কীভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়লের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগ এনেছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষ পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। প্রেসিডেন্ট ইয়ল এখন নীরবতা পালন করছেন। তিনি কোন কথাও বলছেন না। 

এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের তদন্ত কীভাবে এগুবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যের বাইরে তদন্তকারীরা কতদূর যেতে ইচ্ছুক সেটি এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, দেশটির বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্টের অভিসংশন চেয়ে পার্লামেন্টে প্রস্তাব এনেছেন। 

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রেসিডেন্ট পুলিশ প্রধানকে নিয়োগ বা বরখাস্ত করতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি তদন্ত দলও বাতিল করে দিতে পারেন। তবে, পদত্যাগ করলে কিংবা অভিসংশন হলে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত করা যাবে এবং বিচারের মুখোমুখি করা যাবে। 

ইয়লের পূর্বসূরিদের দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি মেনে নেয়ার ইতিহাস রয়েছে। ১৯৭৮ সালে দেশটিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর এখন পর্যন্ত চার প্রেসিডেন্টকে জেলে যেতে হয়েছে এবং একজন দুর্নীতির তদন্ত চলার সময় গুলি করে আত্মহত্যা করেছিলেন। ইয়লের ভাগ্য কী ঘটবে, সেটি সময়ই বলে দেবে।  

সামরিক আইন জারির ঘোষণা এবং চাপের মুখে তা প্রত্যাহারের পর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়ল পার্লামেন্টে অভিশংসনের মুখে পড়েছেন। আইনপ্রণেতারা বুধবার তার বিরুদ্ধে বিল এনে এই প্রক্রিয়া শুরু করেন। শনিবার এনিয়ে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা।

এদিকে, সামরিক আইন জারির পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন। তার পদত্যাগপত্র ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়ল। নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীও নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। আরবে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত চোই বিয়ুং-হিউককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কিমকে অভিশংসনের প্রস্তাব উত্থাপনের পরপরই বুধবার পদত্যাগ করেন তিনি। ইয়ুনের পিপলস পাওয়ার পার্টির নেতারাও সামরিক আইন জারির পরামর্শ দেওয়ার জন্য তার অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এমতাবস্থায় দায় স্বীকার করে কিম বলেন, সামরিক আইন সম্পর্কিত সমস্ত পদক্ষেপ তার কর্তৃত্বের অধীনে পরিচালিত হয়েছিল। জনসাধারণের ‘উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির’ জন্য ক্ষমাও চান তিনি।

এর আগে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণকালে প্রেসিডেন্ট আকস্মিকভাবে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। অবশ্য পরে পার্লামেন্ট সদস্যদের বিরোধিতা ও দেশটির সাধারণ জনগণের বিক্ষোভের মুখে সেটি প্রত্যাহারের কথা জানান। তবে এ নিয়ে এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

এআরএস
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত যৌথ উভচর অবতরণ মহড়া বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে...
উত্তর কোরিয়ায় সামরিক ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে আরও ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত নির্বাচনে হারলেও টিকে থাকে। কিন্তু তারা যে জিনিসটির মুখোমুখি হয়ে সবচেয়ে বেশি অস্তিত্বের সংকটে পড়ে, তা হলো- হঠাৎ করে ক্ষমতার মসনদ হারানো। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য...
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি ও জন্মাষ্টমী শুক্রবার। ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন করে মানবজাতির কল্যাণের লক্ষ্যে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই...
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) বাতিল হওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের আয়ের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে পুলিশের একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর