মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর। ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মিলে চালিয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’। অভিযান থেকে ফিরে ভারতীয় সেনারা দাবি করেছেন, ২৫ মিনিটের নিখুঁত এ অভিযানে তারা পাকিস্তান ও পাকিস্তান শাসিত আজাদ কাশ্মীরে ৯টি সন্ত্রাসী আস্তানা গুড়িয়ে দিয়েছে।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ব্রিটিশ নিউজ চ্যানেল স্কাই নিউজে এসে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে ভারত।
তিনি বলেন, একটা কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিই, পাকিস্তানে কোনো জঙ্গি শিবির নেই। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের শিকার।
কিন্তু পাকিস্তানের মন্ত্রী তারারের এই দাবিকে কার্যত ভেঙে দেন স্কাই নিউজের জনপ্রিয় সংবাদ উপস্থাপক ইয়ালদা হাকিম। এসময় তিনি পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে মদদের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং একাধিক প্রামাণ্য তথ্যের মাধ্যমে মন্ত্রীকে বিড়ম্বনায় ফেলে দেন। ইয়ালদার চাঁচাছোলা মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়েন তারার।

ইয়ালদা হাকিম সরাসরি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারারই এক অনুষ্ঠানে স্বীকার করেছেন, বহু দিন ধরে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ‘নোংরা কাজ’ করে আসছে; অর্থাৎ, জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়েছে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগে সামরিক সাহায্য বন্ধ করে দেন।
তারার আবারও দাবি করেন, পাকিস্তানে কোনো সন্ত্রাসী ঘাঁটি নেই। আমরা সন্ত্রাসের শিকার, লড়াই করছি পশ্চিম সীমান্তে। কিন্তু ইয়ালদা হাকিম তখনই উল্লেখ করেন যে, আল-কায়েদার নেতা ও ওয়ান ইলিভেন হামলার মূল কুচক্রী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদে নিহত হয়েছেন।
উপস্থাপক ইয়ালদা হাকিম আরও বলেন, এরপরও আপনি যদি বলেন পাকিস্তানে কোনো জঙ্গি শিবির নেই, তাহলে আপনি পারভেজ মোশাররফ, বেনজির ভুট্টো এবং আপনার দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীও এক সপ্তাহ আগে যা বলেছিলেন তাদের সবার বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলছেন।

সরাসরি এমন আক্রমণে বেশ বিব্রত হয়ে পড়েন তারার। তাও তিনি বলেন, পাকিস্তান বিশ্ব শান্তির নিশ্চয়তা দেয়। তিনি ইয়ালদাকে তার দেশ পাকিস্তানে ঘুরে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণও জানান।
এসময় হাকিম জানান, আমি পাকিস্তানে গিয়েছি। আমরা সবাই জানি লাদেনকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদে।
২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যু হয় ২৬ জনের। তারপরই একাধিক বৈঠক হয় দিল্লিতে। সশস্ত্র বাহিনী বদলা নিতে যে কোনো অভিযানের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়। ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় সেই হামলা চালিয়ে ঠিকই বদলা নিলো ভারত। তবে এতে দুই পক্ষেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
