পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) একটি গোপন ইউনিট 'এস ওয়ান’ ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা পর্যন্ত ভারতে সন্ত্রাস পাচারে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
রোববার ভারতীয় গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। এনডিটিভি বলছে, ভারতের বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র তাদেরকে এমন তথ্য দিয়েছে। যদিও এনিয়ে পাকিস্তান কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
গোয়েন্দা সূত্র অনুসারে, এস ওয়ানের পুরো নাম হলো ‘সাব-ভার্সন ওয়ান’। সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের পেছনে এই ইউনিটটিই প্রধান চালিকা শক্তি।
কাঠামো এবং অর্থায়ন
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল এই ইউনিটের প্রধান হিসেবে থাকেন। তার পাশাপাশি, দুইজন পদস্থ কর্মকর্তা সক্রিয় অপারেশনগুলো দেখভাল করেন। এই দুই পদস্থ কর্মকর্তার কোড নাম হলো 'গাজী ওয়ান' এবং 'গাজী টু’। এই ইউনিটের সদর দপ্তর ইসলামাবাদে অবস্থিত। সূত্র অনুযায়ী, তাদের বেশিরভাগ সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অর্থায়ন হয় মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে।
কার্যপদ্ধতি ও দক্ষতা
এস ওয়ানের কর্মীরা প্রশিক্ষণে অত্যন্ত দক্ষ এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে পারদর্শী। এর কর্মী ও প্রশিক্ষকরা সব ধরণের বোমা এবং আইইডি তৈরিতে বিশেষজ্ঞ। এছাড়াও, তারা বিভিন্ন ধরনের ছোট অস্ত্র পরিচালনায় পারদর্শী। এই ইউনিটটির কাছে ভারতের বেশিরভাগ স্থানের বিস্তারিত মানচিত্র আছে বলে মনে করা হয়।
ভারতের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ‘এস ওয়ান’ 'গত ২৫ বছর ধরে কাজ করছে। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্প্রতি তাদের কার্যক্রমের সম্পূর্ণ বিন্যাস বুঝতে পেরেছে। ‘এস ওয়ান’-কে বিশেষভাবে ভারতেই সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
গোপন প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ
‘এস ওয়ান’ পাকিস্তানভিত্তিক সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং অত্যন্ত গোপনে তাদের প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে। জয়শ-ই-মোহাম্মদ, লস্কর-ই-তৈয়বা এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রশিক্ষণ শিবিরে এস ওয়ানের কর্মীদের দেখা গেছে।
তারা লম্বা দাড়ি রেখে এবং স্থানীয়, ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকার চেষ্টা করে। এই ইউনিটটি এতই গোপনীয় যে অনেক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জানে না যে তাদের প্রশিক্ষকরা এস ওয়ানের এর সদস্য। সূত্র অনুসারে, গত দুই দশকে এই ইউনিটি হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, এই ইউনিটের কার্যকলাপের সম্পূর্ণ বিন্যাস বুঝতে পারার ফলে ভারতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
