বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও মিয়ানমারের শাসক জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ২২ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অন্তত ৫০ জন। সোমবার বিরোধী বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সাগাইং অঞ্চলের দেপাইন শহরের একটি স্কুলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহতদের সবাই ওই স্কুলের ছাত্র। বিমান হামলার কারণে ধ্বংসস্তূপে অনেকে নিখোঁজ থাকতে পারে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর জান্তা সরকার ৩১ মে পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল, যাতে ত্রাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায়।
বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকেও একই রকম ঘোষণা এসেছিল। তবে এর পরও বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। এই হামলা যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা এবং জান্তা বাহিনীর প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে সাগাইং অঞ্চলের ওয়ে থেইন কুইন গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। গ্রামটি ২৮ মার্চের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এ ঘটনার বিষয়ে জান্তার কোনো মুখপাত্রের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্কুলের ৩৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক বলেন, এখন পর্যন্ত ২২ জন নিহত হয়েছেন- যাদের মধ্যে ২০ জন শিশু ও দুইজন শিক্ষক। তিনি আরও বলেন, আমরা শিশুদের ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু যুদ্ধবিমানটি অনেক দ্রুতগতিতে ছিল এবং দ্রুতই বোমা ফেলে দেয়।
প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী চলতি মে মাসজুড়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল গত ২৮ মার্চের ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশ পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া। ওই ভূমিকম্পে অন্তত ৩ হাজার ৮০০ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মধ্যেও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে লড়াই অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে সাগাইং, কারেন ও চিন প্রদেশে।
নাফ নদীতে তিন জেলে অপরহণ, দুই জনকে গুলি