আরজি কর কাণ্ডের এক বছর, বিচার চেয়ে ‘নবান্ন অভিযান’

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম

আরজি কর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক হত্যার এক বছর পূর্তি হয়েছে। এ অবস্থায় এখনো ন্যায় বিচারের দাবিতে ‘নবান্ন অভিযান’ এ নেমেছেন অভয়ার বাবা-মা!

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট, ভোরের আলো ফোটার আগেই কলকাতার আর.জি.কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে ধর্ষণের পর খুন করা হয় কর্তব্যরত এক পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনি (পিজিটি) ছাত্রীকে (অভয়া)। ৩৬ ঘণ্টা ডিউটি করার পর তার সঙ্গে ঘটে যায় সেই বর্বরোচিত ঘটনা। ঘটনার এক বছর কেটে গেলেও এখনো ন্যায়বিচার পায়নি অভয়ার পরিবার।

স্বাভাবিকভাবে ন্যায় বিচারের দাবিতে এদিন রাজ্য সরকারের সচিবালয় ‘নবান্ন’ অভিযানের ডাক দেয় নিহত চিকিৎসকের মা-বাবা। আর সেই অভিযানকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্র কলকাতা শহর।

অভয়ার বাবা-মায়ের আহবানে সাড়া দিয়ে পতাকা ছাড়াই ওই অভিযানের সামিল হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, শঙ্কর ঘোষ, অশোক দিন্দা, বিজেপির সাবেক সাংসদ অর্জুন সিংসহ বিজেপির নেতা-নেত্রী ও সাধারণ মানুষ।

তবে, পুলিশের পক্ষ থেকে নবান্ন বা কালীঘাট অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে নবান্ন যাওয়ার সমস্ত রাস্তায় বাঁশ, লোহার ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয় সেই মিছিলের গতিপথ। সাঁতরাগাছি, পার্ক স্ট্রিট, হাওড়া ময়দান- একাধিক জায়গায় সেই ব্যারিকেডকে টপকে আন্দোলনকারীরা সামনের দিকে এগোতে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বিতণ্ডা হয়। একসময় উত্তেজিত জনতাকে সরাতে পুলিশকে লাঠিপেটা করতে হয়। এতে শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং, প্রিয়াঙ্গু পান্ডেসহ বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা আহত হন।

পরে পুলিশের কাছ থেকে বাধা পেয়ে পার্ক স্ট্রিট মোড়ে রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন শুভেন্দুসহ বাকিরা। 

অভিযোগ রয়েছে নবান্ন যাওয়ার পথে পুলিশের লাঠিপেটাতে আহত হয়েছেন অভয়ার মা-বাবাও। অভয়ার মা অভিযোগ করে বলেন, রাস্তায় ফেলে চার থেকে পাঁচ জন পুলিশ তাকে মেরেছে। তিনি কপালে আঘাত পেয়েছেন। এমনকি হাতের শাখাও ভেঙে দিয়েছে পুলিশ।

তার প্রশ্ন ‘গত বছর যখন তার মেয়েকে খুন করা হলো তখন কেন পুলিশ এত সক্রিয় ছিলো না?’ পরে অসুস্থ অভয়ার মাকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে।

অন্যদিকে এদিনই কালীঘাট চলোর ডাক দিয়েছে ‘অভয়া মঞ্চ’। এদিন বিকেলে জনচেতনা মঞ্চের ব্যানারে কলকাতার হাজরা মোড়ে জমায়েত হন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, চিকিৎসক। সেখান থেকে পদযাত্রা করে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন কালীঘাটের দিকে যান তারা।

কলকাতা শহরের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও ন্যায় বিচার চেয়ে পথে নামেন সাধারণ মানুষ। শনিবার রাখী পূর্ণিমার দিনে জুনিয়র ডক্টরস ফোরাম এবং অভয়া মঞ্চের সদস্যরা রাখী বেঁধে জনগণকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের বার্তা দেন।

এর আগে ‘ন্যায় বিচার’ চেয়ে শুক্রবার রাতেই ‘পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টরস ফোরাম’ (ডব্লিউবিজেডিএফ) এর পক্ষ থেকে উত্তর কলকাতার কলেজ স্কোয়ার থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত একটি মশাল মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিলো।

এছাড়া আগামী ১৪ আগস্ট মধ্যরাতে চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষের সমাবেশ এবং প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়েছে। মধ্যরাতে, কলকাতা জুড়ে ফের ‘রাত দখল’ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।

গত বছরের ৯ আগস্ট নজিরবিহীন সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর সেই আন্দোলনের ঢেউ ভারতের গণ্ডি টপকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। নারী নিরাপত্তা ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদে অভূতপূর্ব এক গণআন্দোলনের ছবি দেখে গোটা বিশ্বের মানুষ।

ওই ঘটনার ৬ দিনের মাথায়, ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের মধ্যরাতে ডাক দেওয়া হয় ‘রাত দখল’ আন্দোলনের। রাজনৈতিক ব্যানার আবার রাজনৈতিক পতাকা ছাড়াই, সেদিন রাতজাগা তারার মতোই অসংখ্য নারী পথে নেমে এসেছিলেন। নারীদের আহ্বানে সেই রাত দখলে পথ হেঁটেছিলেন বহু পুরুষও।

আর.জি.কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করেছিলো কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীতে সেই মামলার তদন্ত হাতে নিয়ে সিবিআই-ও চার্জশিটে একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে সঞ্জয়ের নামই উল্লেখ করে। এরপর সঞ্জয় রায়ের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেয় শিয়ালদা আদালত। 

কিন্তু কলকাতা পুলিশ কিংবা সিবিআই এর সেই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ জানান অভয়ার মা-বাবা। ঘটনার এক বছর হলেও এখনও বিচার পান নি বলে দাবি তাদের।

তাদের দাবি কেবল মাত্র সঞ্জয় নন, এ ঘটনার শিকড় গভীরে। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে কলকাতা পুলিশ সমস্ত তথ্য প্রমাণ লোপাট করেছে বলে অভিযোগ বাবা-মায়ের। এমনকি আর্থিক লেনদেনের কারণে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইও তদন্তে গাফিলতি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

একাত্তর/আরএ
আরজি কর কাণ্ডে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় আসামি সঞ্জয় রায়ের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
কলকাতার আলোচিত আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে করা মামলায় রায় ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে সঞ্জয় রায়ই কি এই ঘটনার একমাত্র অপরাধী?
কলকাতার আলোচিত আরজি কর হাসপাতালের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা হলো শনিবার। নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের ১৬২ দিন পর বিচার পেলো তিলোত্তমা।
আরজি কর কাণ্ডে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সঞ্জয় রায় দোষী প্রমাণিত বলে জানিয়েছেন বিচারক অনির্বান দাস।
স্পেনের কাছে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে কেবল শিরোপাই হাতছাড়া করেনি আর্জেন্টিনা, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সম্মানও বিসর্জন দিয়েছে তারা! ম্যাচের পর স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক আক্রমণ এবং ট্রফি...
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার বিদ্যমান সেনা আইনেই পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে সাজাপ্রাপ্ত এক নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর