ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ধর্মস্থলে একাধিক খুন, ধর্ষণ ও গণকবর দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলা এবার নাটকীয় মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় মূল অভিযোগকারী সাবেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকেই শনিবার গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশ। অভিযোগকারীর বক্তব্য এবং তার জমা দেয়া নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় পুলিশ তাকে আটক করে।
ভুয়া তথ্য দেয়া ও মিথ্যে অভিযোগ তোলায় সিএন চিন্নাইয়া নামে ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ তদন্তকারী দলের এক কর্মকর্তা। জুলাইয়ের শুরুর দিকে ওই সাবেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এবং একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার বয়ান রেকর্ড করান।
কর্ণাটকে এই গণকবর মামলার তদন্তের জন্য গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধান প্রণব মোহান্তি শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে শনিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত চিন্নাইয়াকে জেরা করেন। সেই সময়েই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, তার তোলা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে। তার পরেই ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সম্প্রতি এক নারী নিজেকে চিন্নাইয়ার স্ত্রী দাবি করে বলেন, ১৯৯৯ সালে আমাদের বিয়ে হয়। আমরা প্রায় সাত বছর ঘর সংসার করেছিলাম। ও আমার সন্তানদের মারধর করত। মনে হয় অর্থের লোভে ও মিথ্যে কথা বলছে। অভিযোগকারীর বন্ধু রাজুও সেই সুরেই সুর মিলিয়ে দাবি করেন, গণ কবর সংক্রান্ত সব অভিযোগ মিথ্যে।
কর্ণাটকের মন্দির শহর ধর্মস্থলে গণকবর মামলা নিয়ে তোলপাড় চলছিলো। মন্দিরের প্রাক্তন সাফাই কর্মী সিএন চিন্নাইয়ার অভিযোগ ছিল, ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী ও নাবালিকার দেহ কবর দেয়া হয়েছিল ও দাহ করা হয়েছিল ধর্মস্থল এলাকায়। শুধু তাই নয়, অনেকের দেহে যৌন নির্যাতনের চিহ্ন ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৯ জুলাই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে রাজ্য সরকার।
এর পরে ৩১ জুলাই ধর্মস্থল শহর লাগোয়া নেত্রাবতী নদীর ধারে বেশ কিছু কঙ্কাল ও হাড়গোড় উদ্ধার হয়েছিলো। কিন্তু এরই মধ্যে এক অভিযোগকারী, যিনি দাবি করেছিলেন তাঁর মেয়ে ধর্মশালা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন, তিনি সেই বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন। সুজাতা ভাট নামে ওই নারী দাবি করেন, তার অনন্যা ভাট নামে কোনও মেয়ে নেই। তিনি মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার মিথ্যে অভিযোগ করেছিলেন দুই সমাজকর্মী মাত্তান্নাভার এবং টি জয়ন্তীর কথায়। এ বার ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হিসেবে সামনে আসা মূল অভিযোককারীকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গাজা ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদে পদ ছাড়লেন ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ফিলিস্তিনি শিশুদের পাশে দাঁড়াতে মেলানিয়াকে চিঠি দিলেন তুর্কি ফার্স্ট লেডি