যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় আইডা পরবর্তী আকস্মিক বন্যায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চারটি রাজ্য এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অধিকাংশ অঞ্চলেই ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। রাজ্যগুলো থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থার রইটার্স জানিয়েছে, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া এবং কানেকটিকাটের বিশাল অংশ জুড়ে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন বাসিন্দারা।
ঝুঁকির মুখে রয়েছে এসব অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। অনেকেই বন্যায় আটকে থাকা বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিউজার্সি এবং নিউইয়র্ক রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ঘূর্ণিঝড় আইডা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ফেডারেল সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুধুমাত্র নিউইয়র্ক শহরেই কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। কুইন্স শহরের একটি বাড়ি থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে মারা গেছেন তিনজন। নিউজার্সির এলিজাবেথে চারজন বাসিন্দা একটি পাবলিক হাউজিং কমপ্লেক্সে আট ফুট পানিতে ডুবে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
নিউজার্সির গভর্নর ফিল মারফি এক টুইট বার্তায় জানান, ওই রাজ্যের কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, মার্কিন উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে একটি আইডা। ঝড়ের তিনদিন পরও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে।

নিউইয়র্ক পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যম নিউইয়ার্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কুইন্স শহরের একটি বাড়িতে দুই বছর বয়সী এক শিশু, ৪৮ বছর বয়সী মহিলা এবং ৫০ বছর বয়সী এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের পার্শবর্তী নিউজার্সিতেও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের ২১টি কাউন্টিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে অধিকাংশ ফ্লাইট।
জরুরি অবস্থার আওতায় রয়েছে নিউইয়র্কের উত্তরপূর্বাঞ্চল। বাঙালি অধ্যুষিত ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রোঙ্কসও এই জরুরি অ্যালার্টের মধ্যে রয়েছে।
এর আগে ৩০ আগস্ট আমেরিকার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে আঘাত হানে শক্তিশালী হারিকেন 'আইডা'। এই ঝড় শহরে আঘাত হানার সময় বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ মাইল বা ২৪০ কিলোমিটার।
একাত্তর/আরবিএস
