ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়টি তেহরান কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। রোববার এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দিয়েছে।
ওই কর্মকর্তা নিরীহ ইরানিদের হত্যার জন্য সন্ত্রাসী এবং সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের দায়ী করেছেন। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ এবং নিহতের ঘটনাগুলো ঘটেছে উত্তর-পশ্চিম ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে।
উল্লেখ্য, এই অঞ্চলে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এবং অতীতেও সেখানে চরম সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চূড়ান্ত নিহতের সংখ্যা আর নাটকীয়ভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইল এবং বিদেশের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের সমর্থন ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। এ সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য ও প্রমাণ তেহরান কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ করেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার জন্য বিদেশি শত্রু, বিশেষ করে ইসরাইলকে দায়ী করে থাকে। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইসলামিক রিপাবলিক ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছিল তাদের চিরশত্রু এই ইসরাইল। ১২ দিনের সেই যুদ্ধের শেষ দিকে ইসরাইলের সঙ্গে আমেরিকাও যোগ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা- এইচআরএএনএ শনিবার জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৩,৩০৮ জনে পৌঁছেছে এবং আরও ৪,৩৮২টি ঘটনা পর্যালোচনাধীন রয়েছে। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে , বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নরওয়ে ভিত্তিক ইরানি কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা 'হেনগাও' জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষগুলো ঘটেছে উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি এলাকাগুলোতে।
