যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘ দিনের সংঘাত এবার চরম রূপ নিলো। বিশ্ববিদ্যালয়টির কাছে ১০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ঐতিহ্যবাহী হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মধ্যকার বিরোধ এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে ‘জঘন্য বেআইনি কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ এনে ১০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ট্রাম্প। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের একটি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও, শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যাওয়ায় ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থান নিলেন।
হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান অভিযোগ হলো- ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ইহুদি বিদ্বেষ দমনে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া হোয়াইট হাউস হার্ভার্ডকে আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘উগ্র বামপন্থী’ মতাদর্শ প্রচারের কেন্দ্র হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছে। যদিও হার্ভার্ড শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প হার্ভার্ডের প্রায় ২০০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান বাতিল এবং ফেডারেল ফান্ডিং স্থগিত করেন। হার্ভার্ড এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করলে একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের নির্দেশকে অবৈধ ঘোষণা করে।
আদালত জানায়, সরকার এভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হোয়াইট হাউস এখন সেই লড়াইকে ভিন্ন পথে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প জানান, তিনি হার্ভার্ডের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চান না এবং ভবিষ্যতে তাদের সব অনুদানের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
হার্ভার্ড লড়াইয়ের পথ বেছে নিলেও আইভি লীগের অন্য তিনটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়- কলম্বিয়া, ব্রাউন এবং পেনসিলভানিয়া তহবিল রক্ষা করতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। তারা আদালতের দ্বারস্থ না হয়ে প্রশাসনের শর্ত মেনে নিয়ে তাদের ফান্ডিং নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্প শুধু ক্ষতিপূরণ দাবি করেই ক্ষান্ত হননি; তিনি হার্ভার্ডের কর-মুক্ত সুবিধা বাতিল এবং সরকারি অর্থায়নে করা গবেষণার পেটেন্টগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। সোমবারের পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, আমরা এখন ১০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চাই এবং ভবিষ্যতে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ভার্ডের মতো একটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এপস্টাইন বিতর্কের জেরে বন্ধ হচ্ছে সারাহ’র দাতব্য সংস্থা