ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত ‘ষড়ভুজ জোট’ এবং এতে ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পাকিস্তানকে প্রবলভাবে বিচলিত করেছে। ইসলামাবাদ একে ‘মুসলিম উম্মাহ বিরোধী ব্লক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ‘কট্টরপন্থী শিয়া অক্ষ’ মোকাবিলায় নয়াদিল্লি ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে জোট গড়ার নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান সিনেটে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) আইনপ্রণেতা পালওয়াশা মোহাম্মদ জাই খান সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ইসরাইলের নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেটের এই প্রস্তাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও পবিত্র স্থানগুলোর আইনি বা ঐতিহাসিক মর্যাদা পরিবর্তনের যে কোনো প্রচেষ্টার সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আইনি আদর্শকে ক্ষুন্ন করে এমন বক্তব্যের কঠোর বিরোধিতা করছে সিনেট।
প্রস্তাবটিতে নেতানিয়াহুর এই আহ্বানকে রাজনৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তিতে ‘মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও অখণ্ডতা বিনষ্ট করার লক্ষ্যে দখলদার ইসরাইলি নেতৃত্বের এক ঘৃণ্য প্রবণতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরবি শব্দ ‘উম্মাহ’ বলতে গোটা মুসলিম জাতি বা সম্প্রদায়কে বোঝায়।
এছাড়া, সোমালিল্যান্ডের স্বাধীনতাকে ইসরাইলের স্বীকৃতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের সিনেট। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ইসরাইল প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়, যা মুসলিম দেশগুলো এবং ওআইসির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল।

নেতানিয়াহুর প্রস্তাব: বুধবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তেল আবিব সফরের প্রাক্কালে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের চারপাশে বা অভ্যন্তরে একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা বা ‘ষড়ভুজ জোট’ তৈরি করবে। নেতানিয়াহু এই প্রস্তাবিত জোটের সদস্য হিসেবে ভারত, গ্রিস, গ্রিক সাইপ্রিয়ট প্রশাসন এবং নাম প্রকাশ না করা কিছু আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশের নাম উল্লেখ করেন।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই জোটের লক্ষ্য হলো এমন একদল দেশের অক্ষ তৈরি করা যারা বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং লক্ষ্যগুলোকে একইভাবে দেখে, যা তথাকথিত ‘কট্টরপন্থী অক্ষের’ ঠিক বিপরীত। তিনি আরও বলেন, আমরা কট্টরপন্থী শিয়া অক্ষকে অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করেছি এবং উদীয়মান কট্টরপন্থী সুন্নি অক্ষের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান থাকবে।
নেতানিয়াহু এই জোটকে ইরান ও তার সহযোগী গোষ্ঠী যেমন হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুতিদের নেতৃত্বাধীন ‘কট্টরপন্থী শিয়া অক্ষ’ এবং আইএসের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে যুক্ত ‘উদীয়মান কট্টরপন্থী সুন্নি অক্ষের’ বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য রক্ষা কবচ হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন।
মিথ্যার মায়াজাল তৈরি করছে দুই যুদ্ধবাজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল: ইরান