ইউক্রেনের তৈরি ড্রোন কিনতে আগ্রহী বিদেশি পক্ষগুলো যাতে সরাসরি বেসরকারি নির্মাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারকে পাশ কাটাতে না পারে, সে জন্য রপ্তানি নিয়ম আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রোববার (১৫ মার্চ) কিয়েভ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাষ্ট্রকে এড়িয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ড্রোন বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ঘটনা ঠেকাতে একটি নতুন ও শক্তিশালী ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি জানান, দেশের প্রতিরক্ষার ওপর প্রভাব বিবেচনা না করে ইন্টারসেপ্টর বিক্রি করায় ইতিমধ্যে একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে তিরস্কার করা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাত শুরুর পর ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরোধী ‘ইন্টারসেপ্টর’-এর প্রতি বিশ্বজুড়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানি ড্রোন হামলা মোকাবিলার উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। কিয়েভ ইতিমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে, যারা ইরানি নকশায় তৈরি ড্রোন ভূপাতিত করার প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। এর বিনিময়ে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দাবি করছে, যা রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি আক্ষেপ করে বলেন, দুঃখজনকভাবে কিছু সরকার বা কোম্পানির প্রতিনিধি নির্দিষ্ট সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে ইউক্রেন রাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে যেতে চায়। এমনকি কিছু মুক্ত দেশেও আমরা শুরুতেই বেসরকারি খাত থেকে সরাসরি চুক্তির প্রস্তাব পাই না। প্রথমে রাজনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা হতে হবে।
তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন, আপনারা চাইলে সরঞ্জাম বিক্রি করতে পারেন, কিন্তু আমাদের সৈন্যদের ছাড়া তা সম্ভব নয়। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমাদের যোদ্ধা বা ড্রোন অপারেটরদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেবে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
রাশিয়া ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনে হাজার হাজার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব ঠেকাতে ইউক্রেন তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ইন্টারসেপ্টর ও ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ইউক্রেনের প্রস্তাব হলো—উপসাগরীয় দেশগুলো সস্তা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে বর্তমানে যে ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তা ইউক্রেনকে দিয়ে দেওয়া হোক। বদলে ইউক্রেন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির সাশ্রয়ী ড্রোন ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করবে।
যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ৮২ কোটি ডলারের জরুরি তহবিল অনুমোদন ইসরাইলের