মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে চাপের মুখে পড়েছে বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলো।
আলজাজিরা, রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ দশমিক ১৯ ডলারে উঠে যায়। গত ২৪ জুলাইয়ের পর এটিই ছিল তেলের সর্বোচ্চ দাম।
তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটি জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি সমুদ্রপথেও হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। ফলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিন সূচক— এসঅ্যান্ডপি ৫০০, ডাও জোন্স ও নাসডাক -সবগুলোতেই পতন হয়েছে। ইউরোপের শেয়ারবাজারও এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। শিল্প ও ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। কানাডার প্রধান শেয়ারবাজারের ফিউচারও কিছুটা কমেছে।
এশিয়ার বাজারে অবশ্য মিশ্র পরিস্থিতি দেখা গেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের উত্থানের কারণে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা ছিল।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের দাম বাড়তে থাকলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও সেবা খাতের ব্যয় বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপরও এর প্রভাব পড়বে।
সোসিয়েতে জেনারেলের কৌশলবিদ মানিশ কাবরা রয়টার্সকে বলেছেন, ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার তেলের দামের জন্য একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক সীমা’। তবে বড় ধরনের চাহিদা কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে হলে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৫০ ডলারে উঠতে হতে পারে।
তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ হলো—মূল্যস্ফীতি বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর বদলে আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে পারে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভও বৈঠকে বসবে।
ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বন্ডবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের বেঞ্চমার্ক বন্ডের ফলন কয়েক দশকের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে সরকারি ঋণের ব্যয় এবং বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজে ইরানের ফাঁদে মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন, স্বীকার করলো ওয়াশিংটন
ছয় মাসে রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২৫ কোটি টাকা: রেলমন্ত্রী