আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে সেনাবাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষা চলার সময় হুড়োহুড়ির চাপে পদপিষ্ট হয়ে মারা গেছেন কমপক্ষে ৩৭ জন। আহত হয়েছে আরও ১৪০ জন। এর মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
মঙ্গলবার, রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী ব্রাজাভিল সেনাবাহিনীর নিয়োগ কার্যক্রম চলার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। গেল সপ্তাহে কঙ্গোর সেনাবাহিনী ১৮-২৫ বছর বয়সী দেড় হাজার লোকবল নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। আগ্রহী প্রার্থীরা একটি স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছিলো, তখনই ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।
কঙ্গো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত সেনাবাহিনীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হচ্ছে। হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাতে আফ্রিকা মহাদেশের দেশটিতে এক দিনের জন্য জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ব্রাজাভিলে দুর্ঘটনা ঘটে। ১৪ নভেম্বর থেকে শহরের একটি স্টেডিয়ামে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুর্ঘটনার সময় ভিড় উপচে পড়ে। লাইন ভেঙে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। তাতেই ঘটে বিপত্তি। পদপিষ্ট হয়ে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়। জখমদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার জন্য কঙ্গোর ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক অবস্থাকেও দায়ী করছে অনেকে। গৃহযুদ্ধে জরাজীর্ণ কঙ্গোর সব ক্ষেত্রেই করুণাবস্থা। খনিজ তেলসমৃদ্ধ কঙ্গোর গ্রামীণ এলাকায় ১৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে এখনো পর্যন্ত বিদ্যুতের আলোই পৌঁছায়নি। দেশটির বেশিরভাগ যুবকই সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার জন্য উৎসাহী থাকে।
মঙ্গলবার চাকরির জন্য লাইনে দাঁড়ানো এক যুবক জানান, শুধু নাম লেখাতেই রাত হয়ে যায়। আমাদের মধ্যে অনেকেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলে ঠেলাঠেলি করা শুরু করে দেয়। তার ফলেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। কঙ্গো সরকার জানিয়েছেন, রাতেও কেন নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনাতোলে কোলিনেত মাকোসো দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। তার নেতৃত্বে একটি ক্রাইসিস ইউনিট গঠন করা হয়েছে। ঘটনার অন্যান্য বিবরণ এখনও অস্পষ্ট। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্রাজাভিলের কেন্দ্রস্থলে মিশেল ডি’অরনানো স্টেডিয়ামে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
ইসরাইলের কথায় বিশ্বাস নেই গাজাবাসীর