আফ্রিকার তেল সমৃদ্ধ দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় নিজার রাজ্যে মসজিদে হামলা চালিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ প্রায় ৬০০ জনকে অপহরণ করার পর তাঁদের জিম্মি অবস্থার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে একটি সশস্ত্র ডাকাত দল। রোববার ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, গহিন বনের ভেতরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ঘেরাওয়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষকে বসিয়ে রাখা হয়েছে, আর পেছনে ভেসে আসছে শিশুদের কান্নার আওয়াজ। রয়টার্স ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
স্থানীয় অধিবাসীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দেকারা গ্রামের একটি মসজিদে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাত দল হানা দেয়। একই সময়ে আশেপাশের বেশ কয়েকটি লোকালয়েও একযোগে এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। পুলিশ এলাকায় হামলার সত্যতা স্বীকার করলেও ঠিক কতজনকে জিম্মি করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।
ভিডিওটিতে এক সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে হাউসা ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়। অপহৃতদের পরিবার ও স্বজনদের উদ্দেশ্য করে সে বলে, এরা সবাই আপনাদেরই লোক। আমরা এই ভিডিও দেখাচ্ছি যেন আপনারা নিজ নিজ বাবা, মা, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনদের চিনে নিতে পারেন।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলে মুক্তিপণের জন্য গণ-অপহরণ এখন এক নিত্যদিনের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। সুসজ্জিত ডাকাত দলগুলো প্রায়শই গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রধান সড়কগুলোতে হানা দিয়ে নিরীহ মানুষদের তুলে নিয়ে যায়।
ভিডিওতে বিপুলসংখ্যক দুগ্ধপোষ্য শিশু ও তাদের মায়েদের করুণ অবস্থা দেখে স্থানীয় বাসিন্দা জামিলু ইব্রাহিমসহ অপহৃতদের স্বজনেরা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের কাছে জরুরি উদ্ধার অভিযানের আকুল আবেদন জানিয়েছেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন প্রশ্নের মুখে, তখন এই ৬০০ মানুষের জিম্মি দশা নাইজেরিয়াজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গিনিতে বর্জ্যের পাহাড় ধসে ৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
ইরানকে একঘরে করার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা