মহাবিশ্বে ‘আমরা একা নই’- এমন এক সাক্ষ্য শুনেছেন মেক্সিকান সিনেটররা। বহির্জাগতিক জীবন বা এলিয়েনের ওপর সেদেশে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক ইভেন্ট। ‘অমানবীয়’ মমির কথিত দেহাবশেষও উপস্থাপন করা হয়েছে এ শুনানি অনুষ্ঠানে।
মঙ্গলবার সিনেটের শুনানিতে আইন প্রণেতাদের সঙ্কুচিত মাথাসহ দু’টি কুঁচকে যাওয়া দেহাবশেষ দেখানো হয়। পাশাপাশি উপস্থাপিত হয় হাইমে মৌসানের ‘ব্যাখ্যাতীত অপ্রাকৃত ঘটনা’ ভিডিওটি। মৌসান একজন ক্রীড়া সাংবাদিক যিনি পরবর্তীতে ‘ইউএফও’ নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী হন।
শুনানিতে মৌসান বলেছিলেন, দেহাবশেষগুলি হাজার বছরেরও বেশি পুরানো। এগুলো মানুষের নয় কিংবা আমাদের স্থলজগতের বিবর্তনের অংশও নয়- এমন প্রাণীর।
‘এটি সব প্রমাণের মহাপ্রমাণ’ দাবি করে মৌসান বলেন, এটার ডিএনএ বিশ্লেষণ যদি আমাদের দেখায় যে তারা ‘অমানব’ এবং পৃথিবীতে এমন কিছুর অস্তিত্ব নেই, তাহলে আমাদের এটিকে সেভাবেই গ্রহণ করা উচিত।
অন্য গবেষণায় অবশ্য ২০১৭ সালে পেরুর নাজকাতে পাওয়া এ মমিগুলিকে ‘জোচ্চুরি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের এ শুনানির আয়োজন করেছিলেন শাসকদল মোরেনার আইন প্রণেতা ও ভেরাক্রুজ রাজ্যের গভর্নর সার্জিও গুতেরেজ লুনা। এতে বিশ্বজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন, যারা এ বিষয়ে স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
শুনানিতে মৌসান পরামর্শ দেন, মেক্সিকো পৃথিবীর প্রথম এমন দেশ হতে পারে, যারা এ গ্রহে এলিয়েনের উপস্থিতি স্বীকার করে।
গুতেরেস লুনা বলেন, শুনানিতে উপস্থাপিত তত্ত্বের বিষয়ে কংগ্রেস কোনো অবস্থান নেয়নি। শুধুই ‘সকল কণ্ঠ, সকল মতামত’ শোনার ওপর জোর দিয়েছে।
ইভেন্টটি জুলাই মাসে একই বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের একটি শুনানির দ্বারা অনুপ্রাণিত। সে শুনানিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ডেভিড গ্রুস অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউএফও প্রকৌশল বিষয়ক একটি প্রোগ্রাম লুকিয়ে রেখেছে। পেন্টাগন তার এ দাবি অস্বীকার করে।
গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরও বিচিত্র দাবি করেন গ্রুস। তিনি বলেন, প্রায় শতবর্ষ আগে মুসোলিনির আমলে ইতালিতে পাওয়া একটি ‘ফ্লাইং সসার’ ও তার পাইলটদের মরদেহ রয়েছে মার্কিন সরকারের কবজায়।
তথাপি, কংগ্রেস শুনানি বহির্জাগতিক জীবন বা এলিয়েন বিষয়ক আলোচনার ক্ষেত্রে একটি সম্মানসূচক মাইলফলক। কেননা একসময় বিষয়টি শুধুই ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের ‘রিজার্ভ’ হিসেবে দেখা হত।
রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিওর মতো সুপরিচিত রাজনীতিবিদ এ বিষয়ে আরও প্রকাশের জন্য চাপ দিয়েছেন। ২০২২ সালে বারাক ওবামা সিবিএস-কে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সরকারের কাছে ‘আকাশে এমন বস্তুর ফুটেজ ও রেকর্ড রয়েছে, যেগুলি সম্পর্কে আমাদের ঠিক জানা নেই। সেগুলি কীভাবে চলে বা তাদের গতিপথ আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি না’।
মূল প্রবন্ধ: টমাস গ্রাহাম, মেক্সিকো সিটি থেকে, ১৩ সেপ্টেম্বরে দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত
