কানাডার অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটিতে আকস্মিক ও মারাত্মক এক দুর্ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। এতে একাধিক সদস্য নিহত ও অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি। স্থানীয় সময় শনিবার অটোয়ায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এই হৃদয়বিদারক তথ্য জানান।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, অ্যালবার্টা প্রদেশের কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইট ঘাঁটিতে ঘটা ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও মারাত্মক আহতের ঘটনা ঘটেছে, যা জানাতে গিয়ে আমি গভীরভাবে ব্যথিত।
প্রদেশটির রাজধানী এডমন্টন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই সামরিক ঘাঁটিতে ঠিক কতজন প্রাণ হারিয়েছেন বা আহত হয়েছেন এবং ঠিক কী কারণে এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা তথ্য প্রকাশ করেননি মন্ত্রী।
শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন জ্বলছিল উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এ ধরনের মর্মান্তিক ও ভয়াবহ কোনো ঘটনার কথা আমার স্মৃতিতে পড়ে না। তিনি জানান, পুরো দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কানাডিয়ান সামরিক বাহিনী এবং রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনার পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বার্তায় জানান, দেশটির জাতীয় সরকার অ্যালবার্টা প্রাদেশিক সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের আদমশুমারি হিসাব মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিএফবি ওয়েনরাইট ঘাঁটিতে প্রায় ১,৩১০ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মী কর্মরত রয়েছেন। প্রায় ৬,৬০০ জনসংখ্যার ওয়েনরাইট শহরটি এই সামরিক ঘাঁটির ঠিক উত্তর পাশেই অবস্থিত।
স্থানীয় পুরসভা তাদের সামাজিক পেজে জানিয়েছে, ঘাঁটির ভেতরে লাগা ভয়াবহ আগুন সীমানা প্রাচীর বা বেড়া ডিঙিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার (ইভাকুয়েশন) জন্য কোনো আদেশ জারি করা হয়নি।
কানাডার ডিফেন্স স্টাফের প্রধান জেনারেল জেনি কারিগনান সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের মূল অগ্রাধিকার হলো ক্ষতিগ্রস্ত সেনাসদস্য, তাঁদের পরিবার এবং স্থানীয় লোকজনের সার্বিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা।
