আবারও এক নারীকে বিবস্ত্র করে গোটা গ্রাম ঘুরানোর অভিযোগে তোলপাড় ভারতে। ছেলে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার অজুহাতে কর্ণাটকের এক মা’কে বিবস্ত্র করে সারা গ্রামে ঘুরানোর পর একটি লাইটপোস্টের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ মাসের শুরুর দিকে ভারতের মণিপুর রাজ্যে এক নারীকে বিবস্ত্র করে ঘুরানোর ঘটনায় ভারতে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম হয়। হতাশাজনক হলেও মণিপুরের ছায়া এবার কর্ণাটকে। ছেলের কৃতকর্মের জন্য মাকে সামাজিকভাবে নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড় এখন দেশটি।
ভারতের আইন বিশেষজ্ঞ এবং লিঙ্গ অধিকার কর্মীরা বলছেন, প্রচলিত আইন এখনও নারীর বিরুদ্ধে এমন ধরনের জঘন্য অপরাধ মোকাবেলার জন্য যথেষ্ট নয়। আর এ কারণেই বারবারই একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এজন্য আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কর্ণাটক রাজ্যের বেলাগাভি তালুকের একটি গ্রামে এক নারী বিবস্ত্র করে ঘোরানো হয় সারা গ্রাম। এরপর নগ্ন অবস্থায় লাইটের পোলে বেঁধে নারীকে মারধরও করা হয়েছে। অপরাধ, তাঁর ছেলে পালিয়ে যায় প্রেমিকার সঙ্গে। ছেলেকে 'শিক্ষা' দিতেই মায়ের উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়।
তরুণী পালিয়ে যাওয়ার পরেই ছেলের বাড়িতে গিয়ে প্রথমে ভাঙচুর করে মেয়েটির পরিবার, তারপর ছেলের মাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানো হয় গোটা গ্রামে। পুলিশ এসে, ওই নারীকে উদ্ধার করে বলে খবর। জানা যায়, ওই তরুণীর অন্যত্র বিয়েও ঠিক করেছিলো পরিবার।
ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেছেন, যারা অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত অমানবিক বলে অভিহিত করেন তিনি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন কর্ণাটকের এই মুখ্যমন্ত্রী।

গেলো ১১ ডিসেম্বর দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেলাগাভি জেলার হোসা ভান্তমুরি গ্রাম এই ঘটনা ঘটে। সেদিন সকালে আনুমানিক দুপুর একটা দিকে প্রায় ডজন খানেক লোক ৪২ বছরের ওই নারীর ঘরে ঢুকে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে আসে এবং তাকে বিবস্ত্র করে পুরো গ্রামে ঘুরায়।
হামলাকারীদের দাবি, তাদের পরিবারের ১৮ বছরের মেয়েকে নিয়ে ওই নারীর ২৪ বছরের ছেলে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পরদিন মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে হবার কথা ছিলো বলে দাবি করেছে তার পরিবার। খবর পেয়ে পুলিশ ভোর চারটার দিকে গ্রামে পৌঁছে নির্যাতনের শিকার নারীটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই নালী গুরুতর ট্রমায় ভুগছেন। তার স্বামী পুলিশকে জানিয়েছেন, তাদের ছেলের সঙ্গে ওই পরিবারের মেয়ের পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার বিষয়ে তারা কিছু জানতেন না। এই ঘটনায় একজন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব অবহেলার জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ওই গ্রামে সযান রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বরও। তিনি জানান, মেয়েটির পরিবারের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য যুবকটির বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের উপর হামলা চালিয়েছে। সেই সময় নারী বাড়িতে একাই ছিলেন। পুলিশ ওই মহিলাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রসন্ন ভারালে এবং বিচারপতি এমজিএস কমল এই ঘটনায় পুলিশকে তলব করেছে। হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনার শুনানি শুর করেন। এ সময় দুই বিচারপতি বলেন, আধুনিক ভারতে এমন ধরনের ঘটনায় তারা হতবাক।

অন্যদিকে, ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনায় রাজ্য সরকারকে নোটিশ পাঠিয়ে, এই মামলায় কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, চার সপ্তাহের মধ্যে কংগ্রেস সরকারের কাছে তা জানতে চেয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদনও চেয়েছে মানবাধিকার কমিশন। পাশাপাশি ওই গ্রামে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে কমিশন।
ঘন কুয়াশা আর ঠাণ্ডায় ত্রাহি অবস্থায় দিল্লি