বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে দেশটির বিদ্রোহীরা। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। মিয়ানমারের জান্তা-বিরোধি তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের যুদ্ধে হারছে জান্তার সেনাবাহিনী।
রোববার রাতে থ্রি ব্রাহারহুড অ্যালায়েন্স একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, জান্তার বাহিনী একের পর এক, সেনা ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছোট ও বড় ক্যাম্পের সেনারা বিদ্রোহীদের কাছে খুব দ্রুতই আত্মসমর্পণ করবে বলে ওই বিবৃতিতে দাবি করেছে অ্যালায়েন্সটি।
সেই সঙ্গে থ্রি ব্রাহারহুড অ্যালায়েন্স আরও জানিয়েছে, যেসব ক্যাম্পের সেনারা এখনো আত্মসমর্পণ করেনি; তাদের বিরুদ্ধে আরাকান আর্মির (এএ) যোদ্ধারা হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে জান্তা বাহিনীও প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে আরাকান আর্মিদের বাধা দেয়া চেষ্টা করছে।

বিবৃতিতে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স দাবি করেছে, জান্তা বাহিনীর গতিবিধি ভালো নয়। তাদের কাছে মনে হয়েছে যেভাবে জান্তা সেনারা লড়াই করছে এবং সমর কৌশল সাজাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে তারা। এরিমধ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে জান্তা রক্ষীদের হটিয়ে দিয়েছে বিদ্রোহীরা।
রাখাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নারিনজারা নিউজ সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১৬ ফেব্রুয়ারি মাইন হামলার মাধ্যমে তাংগুপ শহরের কাছে অবস্থিত মা ই সেতু ধ্বংস করে দেয় জান্তা বাহিনী। পরের দিন আরও দুটি সেতু উড়িয়ে দেয়া হয়। এ সময় স্থানীয় একটি স্কুলসহ আরও কয়েকটি ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি সেনারা রাখাইনের রাজধানী সিত্তেতে প্রবেশের মিন চং (আকা) আহ মিয়ান্ত কায়ুন সেতু ধ্বংস করে দেয়। যা সিত্তে-ইয়াঙ্গুন মহাসড়কের কাছে অবস্থিত। তবে নিজেদের রক্ষায় জান্তারা যেসব সেতু ধ্বংস করেছে সেগুলো মানুষ ও পণ্য পরিবহনে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স।

এদিকে, রাখাইন রাজ্যের দক্ষিণ মংডু শহরে বাও দি কোন সীমান্ত চৌকিতে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করেছে আরাকান আর্মি। গেল বৃহস্পতিবার এই আক্রমণ শুরু হয়। সেদিন ভোরে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে। কামানের গোলা ও ছোট অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দে কেঁপে ওঠে শহর।
সংঘর্ষের তোড়ে মংডু শহরের অন্তর্গত বেশ কিছু গ্রামের বাসিন্দারা তাঁদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। রাখাইন রাজ্যের বুথিদাউং শহর থেকে জান্তা বাহিনীর সদস্যদের পরিবারগুলোকে সামরিক হেলিকপ্টারে প্রদেশটির রাজধানী সিত্তেতে সরিয়া নেয়া হয়েছে, যাতে করে হতাহতের সংখ্যা কমানো যায়।

মংডুতে প্রায় ১০টি সামরিক ব্যাটালিয়ন এবং তিনটি পুলিশ ব্যাটালিয়ন রয়েছে, যারা বুথিডাং এলাকায় তাদের ঘাঁটি রক্ষা করছে। সম্ভাব্য হামলার ভয়ে কিয়াউ কফিউ শহরে একটি জেটি এলাকা এবং মাদায় দ্বীপ থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে জান্তা পরিবারের সদস্যদের থিত পোতে তৌং নৌ ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আরাকান আর্মির দখলে সীমান্ত, ঝুঁকি বাড়ছে
মিয়ানমারে তিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে মৃত্যুদণ্ড