উৎসবে মেতেছে তাইওয়ান! দেশটির আকাশ জুড়ে এখন শুধু হলুদ রঙের আলোর খেলা। শত শত উজ্জ্বল ফানুসে ছেয়ে গেছে তাইওয়ানের নিউ তাইপের পাহাড়ি অঞ্চলের আকাশ। জ্বলন্ত এই ফানুসগুলো ড্রাগনের চন্দ্র বছর উৎসব উপলক্ষ্যে স্থানীয়দের জন্য শুভেচ্ছা বার্তা বহন করে।
চন্দ্রবর্ষ অনুযায়ী চীন, তাইওয়ানসহ এশীয়ার কয়েকটি দেশে জাঁকজমক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন হয় নববর্ষ বা লুনার নিউ ইয়ার। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখে নতুন বছরকে বরণ করে তাইওয়ানের মানুষ। ঐতিহাসিক এই উৎসব ঘিরে রাজধানী তাইপে বেড়েছে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শনার্থীদের ভীড়।
তেমনই এক দর্শনার্থী বললেন, আগের বছরগুলিতে মহামারির কারণে আমি এখানে আসা নিয়ে অনেক ভয়ে ছিলাম, তাই আমি ফানুসে লিখেছিলাম আমার পরিবার সুস্থ এবং নিরাপদে থাকে। তাই আশা করছি নতুন বছরে তারা সুস্থ থাকবেন। সবার জন্য আনন্দময় হবে পুরো বছর।

তাইওয়ানে নববর্ষ উপলক্ষ্যে থাকে সরকারি ছুটি। তাই এই দিনে তাইপের বাসিন্দারা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সাথে একত্রিত হয়ে উপভোগ করেন আনন্দ। তাদেরই একজন বলেন, আমি আকাশ ফানুসের গায়ে লিখেছি, নিজেকে আরও সাহসী ও আত্নবিশ্বাসী হতে হবে। যাতে আমার নতুন চাকরিতে ভালভাবে সব চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে পারি।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ফানুসের গায়ে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের উদ্দেশ্য করে শুভেচ্ছা বার্তা লিখে দেন। স্বজন বা প্রিয়জনের সুস্বাস্থ্য এবং মঙ্গল কামনাসহ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো বানীও লেখা থাকে এসব ফানুসে। এবারের ফানুসগুলোতে চীনা আগ্রাসন থেকে মুক্তির কথাও লিখেছেন অনেকে।
তাদেরই একজন বলেন, অনুষ্ঠানে আমি ফানুসের গায়ে ব্যক্তিগত ইচ্ছার পাশাপাশি তাইওয়ানের জন্য আশা প্রকাশ করেছি। তাই চাই তাইওয়ান প্রণালীর দুই পক্ষের ভবিষ্যত যেন শান্তিপূর্ণ ভাবে উন্নত হয় এবং সামরিক শক্তির কোনো ব্যবহার যেন সেখানে না করা হয়।
এ বছর জাঁকজমক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে তাইওয়ানে ২৬ তম নববর্ষ উদযাপান করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এই উৎসব আয়োজন উপভোগ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারও মানুষ।
চীনকে কতটা সামাল দিতে পারবে লাইয়ের তাইওয়ান?