যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার আধাসামরিক ওয়াগনার গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে। শুক্রবার নিষেধাজ্ঞার আদেশটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞার পর ওয়াগনার এখন যুক্তরাজ্যে হামাস, বোকো হারামসহ অন্যান্য ৭৮টি নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় যুক্ত হবে।
পার্লামেন্টে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করার পর ওয়াগনারের সব সম্পদ সন্ত্রাসী সম্পত্তি হিসেবে গণ্য এবং বাজেয়াপ্ত করা যাবে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় দ্য গার্ডিয়ান।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো সংগঠন সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হলে সেটিকে সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০০’র অধীনে দেশটি ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিতে পারে।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্র্যাভারম্যান বলেন, ওয়াগনার একটি সহিংস ও ধ্বংসাত্মক গোষ্ঠী। ভ্লাদিমির পুতিনের সামরিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে তারা। পুতিনের শাসনব্যবস্থা যে দানবকে সৃষ্টি করেছে, সময় এসেছে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার।
তিনি বলেন, ওয়াগনারের অব্যাহত অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড ক্রেমলিনের রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্যই অব্যাহত রয়েছে। তারা স্পষ্টতই সন্ত্রাসী এবং এ নিষেধাজ্ঞার আদেশটি যুক্তরাজ্যের আইনে তা পরিষ্কার করবে।
জারি করা আদেশে বলা হয়, ওয়াগনারকে সমর্থন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। যার মধ্যে রয়েছে গোষ্ঠীটির কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সভার আয়োজন, লক্ষ্যগুলোর প্রতি সমর্থন প্রকাশ এবং ওয়াগনারের পতাকা বা লোগো প্রদর্শন করা। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
২০১৪ সালে ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের নেতৃত্বে ওয়াগনার আধাসামরিক গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দ্রুত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অধীনে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার একটি প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে গোষ্ঠীটি।
ওয়াগনার যোদ্ধাদের রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারের নির্দেশ