ইউক্রেনজুড়ে হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। প্রতিদিনই নিত্যনতুন এলাকা ও অঞ্চল রাশিয়ার নিশানায় পরিণত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পোলতাভাতের পর, এবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও পশ্চিমের লভিভ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। এতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর আসছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী নতুন এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। এসব হামলায় শুধু লভিভ শহরেই সাত জন নিহত এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া হামলায় শহরের কেন্দ্রস্থলের ঐতিহাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন লভিভের গভর্নর।

লভিভের মেয়র আন্দ্রি সাডোভি জানান, বুধবার ভোরে ড্রোন ও হাইপারসনিক ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় নিহতদের একজন মা ও তার তিন মেয়ে ছিলেন। একজন শিশু ও অন্য একটি মেয়েও নিহত হয়েছে বলে লভিভ শহর প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় শহর পোলতাভাতের একটি সামরিক ভবনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঠিক একদিন পরে লভিভে এই হামলা চালালো রাশিয়া। পোলতাভাতের ওই হামলায় ৫০ জন নিহত ও আরও শতাধিক আহত হয়েছেন। এছাড়া মাটিতে মিশে গেছে সেখানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কিয়েভ এবং লভিভের উপকণ্ঠে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেগুলোকে অভিযানের সময় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওয়াজের মতো শোনাচ্ছে বলে জানান তারা। ইউক্রেন সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের প্রতিরক্ষা ইউনিট হামলা প্রতিহত করতে নিয়োজিত ছিল।
লভিভের আঞ্চলিক গভর্নর ম্যাকসিম কোজিটস্কি টেলিগ্রামে জানান, শব্দটি বেশ জোরে হয়েছে। লভিভ শহরে আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো এই অঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র। বুধবার পোলিশ আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আট দিনের মধ্যে তৃতীয়বার সক্রিয় হয়েছে প্রতিবেশী পোল্যান্ড।

কিয়েভ ও লভিভে হামলার আগে পোলতাভাত ছাড়াও গত সোমবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এতে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মসজিদ বিধ্বস্ত হওয়া ছাড়াও দুজন মানুষ আহত হন। এছাড়া খারকিভেও বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
পোলতাভা হামলা এবং বুধবার লভিভ ও কিয়েভে হামলার বিষয়ে রাশিয়া এখনও কোনও মন্তব্য কিংবা কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেয়নি। মস্কো প্রায়ই বলেছে, তাদের হামলা ইউক্রেনের সামরিক, জ্বালানি এবং পরিবহন অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে। ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের না ওপর নয়।
আড়াই বছরের যুদ্ধের সবচেয়ে খারাপ হামলা থেকে লভিভ রক্ষা পেলেও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, গত সপ্তাহ থেকে লভিভের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো রুশ নিশানায় পরিণত হয়েছে। রুশ হামলা প্রতিহতের জন্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও বেশি করে দূরপাল্লার মিসাইল চেয়েছে ইউক্রেন।
পোলতাভায় রুশ হামলায় নিহত ৫১, আহত দুই শতাধিক