যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপের পাঁচ দেশ বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সি নাভালনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগে রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেছে। এই দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাভালনির শরীরে 'এপিবাটিডিন' এর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
এটি দক্ষিণ আমেরিকার বিষাক্ত ‘ডার্ট ফ্রগ’ বা এক ধরণের ব্যাঙের শরীরে পাওয়া যায়, যা প্রাকৃতিকভাবে রাশিয়ায় পাওয়া অসম্ভব। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা জানি যে রাশিয়া তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভয়ে এই প্রাণঘাতী বিষ ব্যবহার করে নাভালনিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন এবং নেদারল্যান্ডস একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে যে, এই বিষ প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় উপায়, মোটিভ এবং সুযোগ সবই রাশিয়ার ছিল। তারা যোগ করেছে, রাসায়নিক অস্ত্র নীতি লঙ্ঘনের দায়ে তারা রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার কাছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, রাশিয়া নাভালনিকে একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখেছিল। এই ধরণের বিষ ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়া রাষ্ট্র হিসেবে তার হাতে থাকা জঘন্য মারণাস্ত্র এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের নিয়ে তাদের চরম ভয়েরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

নাভালনির বিধবা স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া শনিবার দাবি করেছেন, ২০২৪ সালে আর্কটিক কারাগারে তাঁর স্বামীর হত্যাকাণ্ড এখন একটি বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণিত সত্য।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে নাভালনায়া বলেন, দুই বছর আগে আমি এখানে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম পুতিনই আমার স্বামীকে হত্যা করেছেন। আমি নিশ্চিত ছিলাম, এটি একটি হত্যাকাণ্ড... তবে তখন সেগুলো ছিল শুধু কথা। কিন্তু আজ সেই কথাগুলো বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণিত তথ্যে পরিণত হয়েছে।
অ্যালেক্সি নাভালনি ছিলেন রাশিয়ার দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক এবং পুতিনের বিরুদ্ধে বড় ধরণের আন্দোলনের সংগঠক। তিনি ১৯ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন, যা তাঁর মতে ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, হাঁটার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্বাভাবিক কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে ২০২০ সালেও নাভালনিকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল, যার জন্য তিনি ক্রেমলিনকে দায়ী করেছিলেন। সে সময় চিকিৎসার জন্য তাঁকে জার্মানিতে পাঠানো হয়। কিন্তু পাঁচ মাস পর রাশিয়ায় ফিরলে তাঁকে বিমানবন্দর থেকেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
