গাজায় যুদ্ধের সাত মাস পেরিয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে সেখানকার বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনযাপনের ধরন হয়ে গেছে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। দৈনন্দিন সব বর্জ্য, ত্রাণের প্যাকেট, সবই ফেলা হচ্ছে তাঁবু, বা বসতবাড়ির ধারের কাছেই। এতে দুর্গন্ধ আর রোগ জীবাণু ছড়াচ্ছে বাতাসে। ফলে দূষিত বাতাসে বাড়ছে রোগ বালাই।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দা আবু মোহাম্মদের তাঁবু থেকে এক দেড়শ মিটার দূরেই ময়লার ভাগার। সারাদিনই মাছি উড়ছে, অনবরত পচা দুর্গন্ধ নিতে হয় নিশ্বাসের সাথে। এ নিয়ে তিনি নিজের চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছেন সন্তানদের নিয়ে। কারণ বাতাসে ভেসে বেড়ানো জীবানু শিশু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
আবু মোহাম্মদ বলেন, পোকামাকড় আর দুর্গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ। এই ধরনের পোকা আমরা আগে কখনো দেখিনি। আর বড় বড় মশা, দেখলেই ভয় লাগে। সবচেয়ে ভয়ে থাকি শিশুদের নিয়ে।

আবু মোহাম্মদ জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ আগে বেশ দায়িত্বশীল ছিলো তাই নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার করা হতো। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর নগর ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় যেখানকার ময়লা সেখানেই পড়ে থাকছে।
তিনি বলেন, আমার ছয় বছরের একটি শিশু আছে। এছাড়া আরও দুই সন্তান আছে। ওদের গায়ে বিভিন্নরকম চর্মরোগ হচ্ছে। কারো না কারো জ্বর লেগেই আছে। কিছুতেই সুস্থ রাখতে পারছি না ওদের।
গাজার আরেক বাসিন্দা ইউসুফ হামাদ জানান, মধ্য গাজার আল জাওয়াইদা এলাকায় এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। দিনের চেয়ে রাতে মশা, কীট পতঙ্গ আর দুর্গন্ধে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয় তাদের।
ইউসুফ হামাদ বলেন, এতো নোংরা পরিবেশে মানুষের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব না। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ করবো তারা যেন এসে দেখে কী পরিস্থিতিতে বেঁচে আছে গাজাবাসী।

তিনি জানান, পরিবেশের নানা ধরনের ঝুঁকি বাড়ছে এই যুদ্ধে। আবর্জনা ইতোমধ্যেই বাড়াচ্ছে রোগ বালাই। তার ওপর যদি দীর্ঘদিন এসব ময়লা, পলিথিন মাটির সঙ্গে মিশতে থাকে তাহলে ভূগর্ভস্থ পানিও দূষিত হয়ে যেতে পারে। আর এভাবে চলতে থাকলে পরিবেশের যে ক্ষতি হবে তা অপূরণীয় বলে মনে করছেন তিনি।
হামাদের ভাষায়, যুদ্ধ মানুষকে যতোটা কাতর করে রেখেছে, আশপাশের সব সমস্যা তুলে ধরার মানসিকতা আসলে কারোই নেই। তাই বলে এই সমস্যাগুলো সামনে আসা যে কম গুরুত্বপূর্ণ তা কিছুতেই নয়। আমাদের যা ক্ষতি হচ্ছে তা পূরণে এক যুগও যথেষ্ট নয়।
তিনি জানান, ডায়রিয়া, কলেরাসহ পানি ও বায়ুদূষণ জনিত রোগ ঘরে ঘরে আর এর জন্য দায়ী মূলত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পানযোগ্য খাবার পানির অভাব।
