সম্প্রতি আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ব্যাপক বেসামরিক নাগরিক নিহতের জেরে এবার পাকিস্তান সীমান্তে পাল্টা হামলা চালিয়েছে আফগান তালেবান সরকার। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পাকিস্তান সীমান্তবর্তী লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এই হামলা পরিচালনা করে। অন্যদিকে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে এই হামলার কারণে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর বিবিসির।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা সীমান্ত এলাকায় আফগান পক্ষের চারটি সাধারণ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের উসকানির বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইসলামাবাদ। তবে এই হামলার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি বিবিসি।
জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যমতে, গত রোববার আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পরই মূলত এই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলো।
কয়েক মাস ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকার পর এই অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর গত বছরের অক্টোবরে দুই দেশ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিলো।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে পাকিস্তান বিরোধী সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে তালেবান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের উল্টো অভিযোগ, ইসলামাবাদ বিনা উসকানিতে আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে। যদিও পাকিস্তানের দাবি, তারা শুধু জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করেই অভিযান চালায়।
তালেবান প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার পাকিস্তানি হামলায় আফগানিস্তানের বেসামরিক ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আফগানিস্তান এই হামলাকে একটি ‘কাপুরুষোচিত কাজ’ এবং ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে বর্ণনা করেছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সীমান্ত বরাবর স্থল অভিযান এবং আফগানিস্তানের পাক্তিয়া, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশে জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, নিরীহ মানুষের ওপর সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে চালানো এই অভিযানে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। অবশ্য কোনো পক্ষের দেওয়া প্রাণহানির এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।
উভয় দেশের কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে থেমে থেমে চলা সীমান্ত সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় ইতিমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়। এরপর মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছিলো। সবশেষ জুনের শুরুতে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়ে ২৬ জন জঙ্গিকে হত্যার দাবি করে, যার বিপরীতে আফগান তালেবান সরকার জানায়—উক্ত হামলায় অধিকাংশ শিশুসহ আরও ১৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে।
