আয়াতুল্লাহ খামেনির অন্তিম যাত্রায় শোকার্ত ইরান

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণে এখন শোকার্ত ইরান। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর, বর্তমানে তেহরানের বিশাল প্রার্থনা হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার মরদেহ শায়িত রাখা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৭ বছরের শাসনামলের সমাপ্তি ঘটিয়ে এই মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে এক গভীর সংকটের মুহূর্ত তৈরি করেছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ এখন এক আবেগঘন যাত্রার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার তেহরানের প্রার্থনা হলে হাজার হাজার শোকার্ত সমর্থক তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনের পাশে রাখা হয়েছিল তার কালো পাগড়ি এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত চেকর্ড স্কার্ফ। এই আয়োজনে যোগ দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি এবং চীনের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদলসহ বিশ্বনেতারা।


কর্তৃপক্ষ এই শেষ বিদায়কে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইরান এবং ইরাকের শিয়া পবিত্র শহর কোম, নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রা শেষে আগামী বৃহস্পতিবার মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার খাতিরে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মূল আনুষ্ঠানিকতা কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে।

তবে এই শোকের আবহেও আড়াল হচ্ছে না ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার চিত্র। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্র এমন গভীর বিভাজনের মুখে আগে কখনো পড়েনি। বছরের পর বছর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, চরম মুদ্রাস্ফীতি এবং সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের ফলে নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

বিশেষ করে, নিহত নেতার ছেলে এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে হামলার পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।


বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা সত্ত্বেও, ইরান সরকার এই অনুষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রদর্শনী হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। রাজধানীজুড়ে সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’ সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। শিয়া ঐতিহ্যের ‘শহাদাত’ বা আত্মত্যাগের মহিমায় খামেনির এই মৃত্যুকে সাজিয়ে সরকার জনসাধারণের আবেগ ও সমর্থন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

খামেনির প্রয়াণ শুধু একজন নেতার মৃত্যু নয়, বরং এটি ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য একটি সন্ধিক্ষণ। একদিকে শিয়া ঐতিহ্যের এই শোকযাত্রা, অন্যদিকে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ, সব মিলিয়ে ইরান এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। তেহরানের রাজপথে কান্নার রোল আর বাতাসে বারুদের গন্ধ, সব মিলে এক ধূসর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দেশটি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রীর এক বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনের পর থেকে ইসরাইলে ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর কাছে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘আপাতত পিছু হটবে’ বলে জানিয়েছেন দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার...
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরানের প্রধান প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে এবার মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত...
ফুটবল মাঠে হার-জিত তো থাকবেই, কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় দলের সাবেক কোচ হং মিউং-বোর পরিণতি যেন হার-জিতের সীমানা ছাড়িয়ে এক চরম উত্তেজনাকর থ্রিলারে পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে দলের...
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে নামার আগে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে যেন অন্যরকম এক আত্মবিশ্বাস। গ্রুপ পর্বে দাপট দেখিয়ে নকআউটে ওঠা বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নাকি শুধু লিওনেল মেসির জাদুকরী পায়ের...
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই কি শঙ্কার ঘনঘটা? জার্মানি আর নেদারল্যান্ডসের মতো জায়ান্টরা যখন পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছে, তখন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিবিরেও...
বিশ্বকাপের নকআউটের লড়াই মানেই টানটান উত্তেজনা, আর যখন প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের মতো অজেয় ডার্ক হর্স, তখন স্নায়ুর চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মাঠের খেলোয়াড়দের চেয়েও আজ যেন বেশি উত্তেজিত আর্জেন্টিনার...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর