দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ে বাড়িতে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক বিধ্বংসী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। বুধবারে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানে কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন অধিনায়কের বাসস্থান ও কমান্ড পোস্ট এবং জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের বেশ কয়েকটি প্রধান সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে চালানো সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেখানকার মার্কিন অধিনায়কের আবাসন এবং কমান্ড সেন্টার সরাসরি ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে একাধিক শত্রুপক্ষীয় সেনা নিহত হয়েছে বলে আইআরজিসির দাবি। এছাড়া সাধারণ ইরানি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন হ্যাঙ্গার এবং র্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বেশ কয়েকটি আধুনিক ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হামলায় মার্কিন অধিনায়কের পরিণতি কী হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

কুয়েতের জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় আইআরজিসি জানায়, এই হামলা কুয়েতি ভাইদের বিরুদ্ধে নয়, বরং আমেরিকান দখলদার বাহিনীকে বিতাড়িত করার সহায়ক পদক্ষেপ। কুয়েতের ভূমিকে মার্কিন প্রভাবমুক্ত করতেই এই অপারেশন চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
অন্যান্য ঘাঁটিতেও ইরানের এই সমন্বিত হামলা বিস্তৃত ছিল। জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে আইআরজিসির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়, যাতে বেশ কয়েকজন আমেরিকান পাইলট ও ফ্লাইট ক্রু নিহত হন।
অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীর 'অপারেশন থান্ডারবোল্ট'-এর ৩০তম ধাপে ‘আরাশ’ সুইসাইড ড্রোনের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা ও আল মিনহাদ ঘাঁটিতে এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন রাডার ব্যবস্থা ও সেনাশিবিরে বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সামরিক বাহিনী একযোগে জানিয়েছে, সিরিক কাউন্টির এক সুন্নি দম্পতির বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় ৪ জন নিহত (যার মধ্যে একটি শিশু রয়েছে) এবং প্রায় ৭০ জন আহত হওয়ার নির্মম ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই এই সামরিক পদক্ষেপ। বেসামরিক নাগরিকদের বিয়ের উৎসবে এ ধরনের নির্বিচার হামলাকে পরিষ্কার যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়ে তেহরান সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
