নেপালের প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক বন্যায় ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় অবস্থিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো পলি ও কাদার নিচে সম্পূর্ণ চাপা পড়ার পর এখন উদ্ধারকাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলোর দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো। কাদার নিচে আটকা পড়া শত শত শ্রমিক ও কর্মীকে উদ্ধারে চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

নেপালি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, নদীর আশপাশের প্রকল্পগুলোতে এখনও প্রায় ৯০০ জন কর্মী নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। এই নিখোঁজদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই 'অপার ত্রিশূলী-১' জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের, যেখান থেকেই সম্প্রতি লু হাইতাও নামের চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকারীদের জন্য প্রতিটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রেই ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে। কয়েকটি প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সুড়ঙ্গ মূল প্রবেশদ্বার থেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে আটকা পড়া শ্রমিকেরা প্রবেশপথ থেকে অনেক গভীরে অবস্থান করতে পারেন। বিশেষজ্ঞ ভূতাত্ত্বিকদের মতে, সুড়ঙ্গের ভেতরের প্রকোষ্ঠ, জরুরি খাবার ও রসদ সুবিধা আটকে পড়া মানুষদের তাত্ত্বিকভাবে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখতে পারে; যদিও সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও বাতাস সরবরাহের সংকট সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

দুর্গম এই সুড়ঙ্গগুলোতে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য সামরিক বাহিনী ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলটি আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে। উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স জানান, সুড়ঙ্গের নিখুঁত প্রবেশপথ খুঁজে বের করতে স্যাটেলাইট ডাটা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশা ও ভৌগোলিক ভূসংস্থানের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এছাড়া সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রাণের অস্তিত্ব ও তাপমাত্রা সনাক্ত করতে থার্মাল ক্যামেরা সমৃদ্ধ ড্রোন ব্যবহার করে তল্লাশি চালনা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
