অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম বা আল-কুদসের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রবেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকার ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। এতে দেখা যায়, আগের রাতে তিনি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পুরনো শহর ও আল-আকসা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় একটি ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। খবর পার্সটুডের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, পবিত্র ইসলামী স্থাপনায় নেতানিয়াহুর এই প্রবেশের নিন্দা জানায় তারা।

সংগঠনটির ভাষ্য, আল-আকসা মসজিদ ও আল-বুরাক প্রাচীরের নিচে থাকা সুড়ঙ্গ ও খননস্থলে নেতানিয়াহুর প্রবেশ এবং সেখানে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া ওই স্থানের পরিচয় ও মর্যাদার ওপর স্পষ্ট আক্রমণ।
হামাস জোর দিয়ে বলেছে, আল-আকসা মসজিদের পুরো প্রাঙ্গণ—নামাজের স্থান, দেয়াল ও ফটকসহ—চিরকাল একটি ইসলামী মসজিদ হিসেবেই থাকবে।
পবিত্র স্থানটির ইসলামী পরিচয়ের পক্ষে ঐতিহাসিক ও বাস্তব প্রমাণের কথাও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

হামাস আরও বলেছে, দখলদারদের খননকাজ, অনুপ্রবেশ, ধর্মীয় আচার এবং বাইবেলভিত্তিক বর্ণনা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কখনোই আল-আকসার পরিচয় পরিবর্তন বা এর নিদর্শন মুছে দিতে পারবে না।
এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নেতানিয়াহু, কয়েকজন মন্ত্রী এবং হাজার হাজার ইসরাইলি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পশ্চিম প্রাচীরের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।
আল-কুদস গভর্নরেট জানায়, পুরনো শহরের ওয়াদি সড়ক দিয়ে ওই প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন তারা।
গভর্নরেটের ভাষ্য, তাদের প্রবেশের পর আল-আকসা মসজিদের অন্যতম ফটক বাব আল-রহমার কাছে নামাজের আহ্বান ও ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় এবং পুরনো শহরে কেনাকাটার জন্য এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।
ইহুদিদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইয়োম কিপ্পুর ঘনিয়ে আসায় আল-আকসায় আরও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং দখলদারিত্বের পরিকল্পনা প্রতিহত করতে ফিলিস্তিনিদের মসজিদটিতে আসার আহ্বান জানানো হয়।
পশ্চিম প্রাচীরের নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলি বাহিনীর হাতে। ইহুদিদের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত এই প্রাচীরকে বিভিন্ন সময় ইসরাইলিরা ধর্মীয় আচার পালনের জন্য ব্যবহার করে আসছে।
পশ্চিম প্রাচীরটি ‘ওয়েলিং ওয়াল’ নামেও পরিচিত। আরবিতে এটি ‘হায়িত আল-বুরাক’ নামে পরিচিত এবং এটি ইহুদিদের একটি প্রাচীন প্রার্থনাস্থল।
তবে প্রাচীরটির মালিকানা নিয়ে ইহুদিদের দাবিকে ফিলিস্তিনিরা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের বক্তব্য, এটি হারাম আল-শরিফের সীমানা-প্রাচীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর সামনের প্রাঙ্গণ ঐতিহাসিকভাবে জনসাধারণের চলাচলের পথ ও আবু মিদিয়ান ওয়াক্ফের সম্পত্তির অংশ।
ফিলিস্তিনিরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের ঐতিহ্য ও পরিচয় রক্ষা করে আসছেন।
হরমুজ প্রণালী ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে: সামরিক মুখপাত্র
‘পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি’ থেকে বেরিয়ে আসতে তোড়জোড় ইরানে, সংসদে বিল