ইরানকে লক্ষ্য করে ১,০০০ কিলোমিটার দূরে ঘাঁটি গেড়ে বসা শত্রুশক্তিকে ধরাশায়ী করতে এবার নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরিসর ও গতি নজিরবিহীনভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আর্মির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক সাক্ষাৎকারে এই রণকৌশলগত পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেছেন। ৪০ দিনের 'রমজান যুদ্ধ'-এর অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা থেকে শিক্ষা নিয়েই ইরানি বাহিনী তাদের বিদ্যমান মিসাইল প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ঘটানোর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কার্যকারিতা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত ও সফল। বিশেষ করে স্থলবাহিনীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কুয়েতে অবস্থিত শত্রুঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং নৌবাহিনীর ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে সাগরে শত্রুযানে আঘাত হানার সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বর্তমানে শত্রু উপকূল থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে তাদের অবস্থান নিরাপদ রাখার চেষ্টা করায়, সেই দূরত্বকে তুচ্ছ করে নির্ভুল ও দ্রুতগতিতে আঘাত হানার লক্ষ্যে ইরান এখন থেকে তাদের সকল ক্যাটাগরির মিসাইলের সীমা, গতি এবং লক্ষ্যভেদের সূক্ষ্মতা বহুগুণ বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে।
মেজর জেনারেল আকরামিনিয়া দৃঢ়তার সাথে জানান যে, খুব শীঘ্রই ইরান আরও বেশি সক্ষমতাসম্পন্ন নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করতে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দূরত্ব যাই হোক না কেন, যেকোনো স্থান থেকে ইরানের ওপর হুমকি সৃষ্টি করা হলে সেই দূরত্বের কথা মাথায় রেখেই পাল্টা আঘাত হানা হবে। ভৌগোলিক দূরত্ব বৃদ্ধি করেও কোনো শত্রুশক্তি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হাত থেকে রেহাই পাবে নাম, সেনাবাহিনীর এই নতুন বার্তায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ফার্স নিউজ
আমেরিকার দিন শেষ, নতুন চমক নিয়ে প্রস্তুত ইরান!
ইউক্রেনে রুশ হামলায় ধ্বংস ভারতীয় মালিকানাধীন ফার্মা