টানা তাপদাহে অতিষ্ঠ নগর জীবন। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা মানুষের। দক্ষিণের বায়ু প্রবাহ না থাকায় তাপ প্রবাহের স্থায়ীত্ব বেশি হচ্ছে। দেশজুড়ে এমন তীব্র তাপ প্রবাহকে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ঈদের আগে বৃষ্টির তেমন কোন সম্ভাবনাও নেই। তাই সহসাই মিলছে না তাপদাহ থেকে মুক্তি।
তাই, গরমে রোগবালাই থেকে রেহাই পেতে বেশি করে তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বেশি সময় সূর্যের নিচে না থাকা এবং পথে বের হলে সঙ্গে পানি রাখার পরামর্শও এসেছে তাদের কাছ থেকে।
বৈশাখেও দেখা নেই কালবৈশাখীর। বৈশাখের আকাশ এখনও যেনো চৈত্রের দাবদাহের দখলে। সূর্যের প্রখর রোদে পুড়ছে সারাদেশ। তীব্র তাপদাহে দুর্বিসহ জনজীবন। জীবিকার তাগিদে প্রখর রোদেও পথে নামতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।
রোদে পুড়ে রিকশা চালাতে হাঁপিয়ে উঠছেন চালকরা। ঘাম ঝরা শরীর নিয়ে গাছ তলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। তারা বলছেন, রোদের তাপে শরীর ঝলসে যাওয়ার অবস্থা। এমন গরম শেষবার কবে পড়েছে, সেই কথা স্মরণ করতে পারছেন না তারা।
একই কথা জানিয়ে আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশ জুড়ে এমন টানা তাপ প্রবাহ এর আগে কখনও দেখা যায়নি। আগে তাপদাহ থাকতো এপ্রিল পর্যন্ত।
কিন্তু ২০১০ সাল পর থেকে তা আগস্ট পর্যন্ত বিরাজ করছে। প্রকৃতির নিয়ম মতো বৈশাখে দক্ষিণ থেকে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কথা। কিন্তু সেই বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে পূর্ব-পশ্চিশ দিক থেকে।
যা মূলত শীতকালে প্রবাহিত হয়। এরআগে আবহাওয়ার এমন পাগলাটে আচরণ দেখা যায়নি। যাকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলছেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ।
সারাদেশে এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে আরও দুদিন। ২০ তারিখ পর থেকে কমে আসবে তাপমাত্রা। তবে, ঈদের আগে টানা বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা নেই বলছে আবহাওয়া অফিস।
তীব্র গরম থেকে রেহাই পেতে ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। রোগবালাই থেকে বাঁচতে প্রচুর পানি, স্যালাইন এবং তরল জাতীয় খাবার খেতে বলা হয়েছে।
এদিকে তীব্র গরমে নগরের মানুষ ও প্রকৃতিকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে স্প্রে ক্যাননের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি ছিটিয়েছে উত্তর সিটি কর্পোরেশন।
একাত্তর/এআর
