শরতের ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর কাশফুল ইতিমধ্যেই জানান দিয়েছে উমা আসছেন। শিউলি, ছাতিম আর ঘাসের ডগায় শিশির কণাও বলছে, দুর্গতিনাশিনিকে বরণে প্রস্তুত প্রকৃতিও। সব মিলিয়ে দেবি দুর্গার আবাহনে প্রস্তুত বাঙালি।
শুক্রবার দিবাগত রাত শেষে ভোরের আলো ফুটতেই বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের সেই জলদগম্ভীর কণ্ঠে ভেসে আসবে চিন্ময়ীকে মৃন্ময়ীতে আহবান। কৃষ্ণপক্ষের অবসান এবং শুক্লপক্ষ বা দেবিপক্ষের সূচনা আজ, আজ মহালয়া।
পুরাণে বলা হয়েছে, যে ক্ষণে পরমাত্মায় অর্থাৎ পরব্রহ্মে লয় প্রাপ্তি ঘটে সেটিই হল মহালয়। শ্রী শ্রী চণ্ডিতে মহালয়া হচ্ছে পূজা বা উৎসবের আলয়। এখানে আলয় শব্দটির একটি অর্থ হচ্ছে আশ্রয়। চণ্ডিতে তাই ‘মহালয়’ বলতে ‘পিতৃলোককে’ বোঝানো হয়েছে। পিতৃলোককে স্মরণের ক্ষণকেই বলা হয়েছে মহালয়া। আর ব্যাসদেব মহাভারতে লিখেছেন, পিতৃলোককে স্মরণের অনুষ্ঠানই হলো মহালয়া।
শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, পিতৃপক্ষের অবসানে, অমাবস্যার অন্ধকার পেরিয়ে আমরা আলোকোজ্জ্বল দেবীপক্ষকে আগমন করি, তাই সেই মহা লগ্ন আমাদের জীবনে ‘মহালয়া’। এক্ষেত্রে দেবী দুর্গাকেই সেই মহান আশ্রয় বলা হয়ে থাকে এবং আঁধার থেকে আলোকে উত্তরণের লগ্নটিকে বলা হয় মহালয়া।
এদিন সনাতন ধর্মের মানুষ কম-বেশি প্রায় সবাই স্মৃতি রোমন্থন করেন। হাতড়ে বেড়ান সেই শৈশব, কৈশোর, যৌবনের পুজোর দিনগুলো। আর বড়রা ব্যস্ত হয়ে পড়েন পরিবারের সব সদস্যদের জন্য নতুন বস্ত্র ও পার্বণের নাড়ু-মোয়া নিয়ে।
ষষ্ঠীর সকাল থেকে শুরু করে বহু প্রতীক্ষিত অষ্টমির অঞ্জলি, মহানবমীর উচ্ছলতা আর বিজয়া দশমীর বিসর্জনের বাজনার সেই স্মৃতিগুলো আজ থেকেই দোদুল দুল খেলবে হৃদয়ে। আর দূরের স্বজন ঘরে ফিরবে অথবা এবারেও ফেরা হবে না, মনে করিয়ে দেওয়ার দিন আজ।
১৯৩১ মহালয়ার এই ক্ষণে আকাশবাণী কলকাতায় একটি প্রভাতী সংগীতালেখ্য এক বিষ্ময় ঘটায়। আর এই বিস্ময়টি সেদিন যিনি ঘটিয়ে ছিলেন তার নাম শ্রী বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। তার জলদ গম্ভীর কণ্ঠে চণ্ডিপাঠ সেই যে বাঙালি মনে আস্তানা গেঁড়েছে, আজও তা একটুও নড়চড় হয়নি।

যে নদীর ঘাটে আগের বছর বিসর্জন দিয়ে ফিরে আসা একটি বছরের প্রতীক্ষা নিয়ে সেই ঘাটেই পিতৃ তর্পণের মাধ্যমে দেবীর আগমনী। দেবী নদীর কোল থেকে বেরিয়ে নদীর কোলে ফিরে যান।
২০ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এবার ঢাকা মহানগরীতে ২৪৫টিসহ সারাদেশ ৩২ হাজার ৪০৮টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যা গত বছরের চেয়ে ২৪০টি বেশি। ২৪ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
দুর্গাপূজা মূলত পাঁচদিন ব্যাপ্তির পূজা হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় তার শেষ হয়।
