নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ইস্যুতে প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর।
রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে মামলা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনি অপরাধ আমলে নিয়ে এখনও কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত হয়নি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার শুরুর আগে থেকেই প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও, এখন যেন তা প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার মাদারীপুরের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার মতো সহিংস ঘটনাও ঘটেছে।
কমিশনের শোকজ নোটিশ আর গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের মধ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। এ নিয়ে কমিশন প্রার্থীদের সতর্ক করে কারণ দর্শানোর চিঠি দিলেও আচরণে খুব একটা পরির্বতন আসেনি। তারপরও প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন।
শনিরবার নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেছিলেন, কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
তার এমন বক্তব্যের একদিন পরেই কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম এবং স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা কঠোরভাবে রয়েছে।
নির্বাচন ভবনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, শোকজ রিটার্নিং অফিসার-সহকারী রিটার্নিং অফিসার করছে, নির্বাহী-বিচারিক হাকিমের কমিটি করছে; ইসির পক্ষ থেকে সরাসরি শোকজ করছি না দুয়েকটা ছাড়া। মাঠে শোকজ করার পর জবাব দিচ্ছে, এসব প্রতিবেদন আসছে ইসিতে। কোনো ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে একাধিকবার, গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে আদালতেও পাঠানো হয়েছে।
ইসির নিয়ম অনুযায়ী যা করার, তা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশন সরাসরি একজনকে ডেকেছে (আমির হোসেন আমু) এবং তিনি এসে জবাব দিয়েছেন। যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রকাশ হয়েছে, বাস্তবে তা হয়নি; এডিটিং করে প্রকাশ করা হয়। তবুও পরবর্তী সময়ে আচরণবিধি মানার বিষয়ে সাবধান হবে বলে জানিয়ে গেছেন এ প্রার্থী।
কুমিল্লার আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রতিবেদন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন এলে দেখা যাবে। অনুসন্ধান কমিটি তাকে তিন বার শোকজ দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে উঠে আসবে কী ঘটেছিলো। প্রতিবেদন আসার পর বিচার বিশ্লেষণ করা দেখা হবে। প্রতিবেদনে কি এলো-তা পেয়ে তারপর সিদ্ধান্ত হবে।
নির্বাচনি সহিংসতার অভিযোগে একজন নির্বাচন কমিশনার কারো না কারো প্রার্থিতা বাতিলের কথা বলেছেন-এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মো. আলমগীর বলেন, যিনি বলেছেন তাকেই জিজ্ঞাসা করতে হবে। আমি তো এমন কথা বলতে পারি না। রিপোর্টই তো হাতে আসেনি। রিপোর্ট পেলে আমরা বসবো, আলোচনা করবো, দেখবো। তারপরে রিপোর্ট আসার পর একজন প্রার্থীকেও শুনতে হবে আইন অনুযায়ী; তাকেও আমাদের ডাকতে হবে, আপনার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আছে আপনার বক্তব্য কী? তারপর দেখতে হবে, যাচাই-বাছাই করতে হবে।
নির্বাচনি এলাকায় হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হচ্ছে বলে জানান মো. আলমগীর।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেখানে প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা ঘটছে, সেখানে সঙ্গে সঙ্গেই মামলা হচ্ছে। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে নরসিংদী, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী এলাকায় এমন তথ্য রয়েছে।
ঢালাওভাবে নয়, আচরণবিধি লঙ্ঘনের মাত্রা দেখে ব্যবস্থা শোকজ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
৩০০ নির্বাচনি এলাকায় প্রায় এক হাজার ৯০০ প্রার্থী রয়েছেন। গড়ে প্রতি আসনে সর্বনিম্ন দুজন থেকে কোথাও কোথাও সাত জন বা তার বেশি প্রার্থী রয়েছে। ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি তফসিল ঘোষণার পর থেকে ‘আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণ না করা’, ‘মনোনয়নপত্র জমার সময় শোডাউন করা’ এবং ‘নির্বাচনি প্রচার শুরু হওয়ার পর বিধিলঙ্ঘন করা’ প্রভৃতি অভিযোগে দেড়শোর বেশি শোকজ করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, ভোটে প্রার্থী কম নয়, কোনো আসনই আন-চ্যালেঞ্জড যাচ্ছে না। প্রতিটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। প্রত্যেক প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, ছাড় দিচ্ছে না। প্রতিযোগিতা নেই একথা বলা যাবে না।
এ নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনি ডামাডোলে সবাই ব্যস্ত। প্রচারকে ঘিরে ছোটোখাটো কিছু ঘটনা (আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি) ঘটতে পারে। বাংলাদেশের সব নির্বাচনে এ ধরনের ঐতিহ্য রয়েছে, এটা ব্যতিক্রম না।
তিনি বলেন, ‘দেওয়ালে পোস্টার লাগানোর জন্য শোকজ, অন্যের পোস্টার ছেঁড়ায় জরিমানার মতো ছোট-খাটো আচরণবিধিও প্রতিপালনের বিষয়ে নজর দেওয়া হয়েছে। আমরা যেটা করছি, সব জায়গায় কঠিন বার্তা দেওয়া হচ্ছে- বিভাগীয়, জেলা সফরে বলা হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনকে কঠিন থাকতে হবে। বুঝতে হবে, আচরণবিধির মাত্রাও দেখতে হবে। ছোট আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য বড় শাস্তি দেওয়া যাবে না, আবার বড় আচণবিধি লঙ্ঘনের জন্য ছোট শাস্তি দেওয়া যাবে না। এটা যথাযথ হতে হবে।
মানুষ পুড়িয়ে নির্বাচন বন্ধের ফায়দা নেয়া চলবে না: প্রধানমন্ত্রী