বিশ্বের অন্য দেশের মতো নানা আয়োজনে আজ দেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস। যদিও কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি বললেন, এখনও ভোক্তাদের অধিকার পদে পদে লঙ্ঘিত হচ্ছে। তবে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, লোকবল সঙ্কটের মধ্যেই ভোক্তা স্বস্তি দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা।
ভোক্তা-অধিকার নিশ্চিতে ২০০৯ সালে দেশে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ প্রণিত হয়। আর ২০১০ সাল থেকে অধিদপ্তর কর্তৃক ১৫ মার্চ বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবস পালন করা হচ্ছে।

ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, নানাভাবে প্রচারে এখন দেশে অনেকেই ভোক্তা আধিকার দিবস এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানেন। কিন্তু এখনও দেশে পদে পদে ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
গেলো ১৫ বছরে ভোক্তাদের অধিকার কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? এমন প্রশ্নে ভোক্তা অধিদপ্তরে মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন, সফলতা-ব্যর্থতার মাপকাঠি নিরুপণ করবেন ভোক্তারা। ১৭ জেলায় কোনো কর্মকর্তা নেই, তারপরেও ভোক্তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে অধিদপ্তর।
সময়ে সঙ্গে সঙ্গে এখন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশোধন করা উচিত বলেও মনে করেন ভোক্তার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

এদিকে এ দিবস উদযাপন উপলক্ষে সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ি, ভোক্তার স্বার্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করি।’

বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবসের ইতিহাস বেশ ঘটনাবহুল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি কংগ্রেসে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে বক্তৃতা দেন। ভোক্তাদের চারটি অধিকার বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন। এগুলো হলো- নিরাপত্তার অধিকার, তথ্য প্রাপ্তির অধিকার, পছন্দের অধিকার এবং অভিযোগ প্রদানের অধিকার। দিনটি ছিল ১৫ মার্চ, ১৯৬২।
১৯৮৫ সালে জাতিসংঘ কেনেডি বর্ণিত চারটি মৌলিক অধিকারকে আরও বিস্তৃত করে অতিরিক্ত আরও ৮টি মৌলিক অধিকার সংযুক্ত করে। কেনেডির ভাষণের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৫ মার্চকে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস হিসেবে বৈশ্বিকভাবে পালন করা হয়।
