গেল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতায় এবার ঈদ করতে যাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষেরা। প্রতিটি খাদ্য পণ্যের দাম যখন বাড়তি, তখন ঈদে আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না নিম্নআয়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। বড়দের না হোক অন্তত ছোট শিশুদের জন্য হলেও একটু মানবিক সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন তারা।
“তরকারি নেই,যা আছে তা দিয়েই খাও”- নিজের ছোট্ট অবুঝ কন্যাকে হয়ত এটাই বোঝানোর চেষ্টা করছেন বাক প্রতিবন্ধী সুবর্ণা। মায়ের কথাটাও হয়তো বুঝতে পেরেছে শিশুটি, ছেড়া বাসি রুটি চিবিয়ে যাচ্ছে মুখে মিষ্টি হাসি নিয়েই।
বাক প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে পাঁচজনের সংসার টানতে টানতে ক্লান্ত সুবর্ণার বাবা। এরমধ্যে সামনে ঈদে। কিভাবে কী করবেন সমীকরণ মেলাতে পারছেন না।
সুবর্ণার বাবা জানালেন, তার পাঁচটি মেয়ে। এর মধ্যে এই বোবা মেয়েটাকে নিয়ে তিনি বেশ কষ্টে আছেন।

ঈদের আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, যা অল্প রোজগার করছেন, তা দিয়ে কোনোমতে চলছে সংসার। তাদের মতো গরীব মানুষদের জন্য কোনো ঈদ নেই বলে ক্লেশভরা কণ্ঠে জানালেন তিনি।
সুবর্ণার চেয়েও রহিমার সংসারটি যেন আরও বেশি অনিশ্চয়তার। বাজারে ফেলে দেয়া মাছগুলো সংগ্রহ করে সেটা তেলে ভাজার চেষ্টা করছেন। পরিবারের কর্তা চাল নিয়ে এলে ভাত রান্না হবে। এই অনটনেও রহিমা কিন্তু স্বপ্ন দেখছেন, ঈদে ছোট দুটো বাচ্চাকে জামা কিনে দেবেন।
রহিমা জানালেন, জিনিসের যা দাম, তাতে তাদের আর কেনার সামর্থ্য নেই।
তবুও ঈদ নিয়ে তার আশা জানিয়ে বললেন, কিছু একটা কিনতে পারলে, গায়ে দেবে বাচ্চারা। না কিনতে পারলে নতুন জামা ছাড়াই এবার ঈদ হবে ওদের।

নিম্নআয়ের মানুষের প্রতিটি পরিবারেরই এমন সংগ্রামের গল্প। যেমন ছয় সন্তানসহ আট সদস্যের পরিবার চালান রিকশাচালক বাচ্চু মিয়া। তাবু টাঙিয়েই মাথগুজে দিন পার করছেন।
তিনি জানালেন, ঈদ কাছে এসে গেছে। ছেলেমেয়েরাও বায়না ধরছে। কিন্তু এখনও তাদের কিছু কিনে দিতে পারেননি।
আক্ষেপ করে তিনি বললেন, আগে তিনবেলা খাবার জুটুক তারপর ঈদ নিয়ে ভাবা যাবে।
ভুল চিকিৎসায় পা-ভাঙা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ