শেষ মুহূর্তের ঈদযাত্রায় মানুষের চাপ শুরু হতেই, যেন উধাও হয়ে গেলো ঈদযাত্রার সব স্বস্তি। যার শুরুটা রাজধানীর বাস টার্মিনাল থেকে। কর্তৃপক্ষের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই দূরের যাত্রায় নেমেছে ঢাকার সিটি সার্ভিসের বাস। চলছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায়।
রাজধানীর পেটের ভেতরে থাকা মহাখালী টার্মিনালের টিকেট চলে গেছে কালোবাজারে। দীর্ঘ অপেক্ষাতেও কাউন্টারে টিকেট পাননি যাত্রীরা। বাসের জন্য যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়েও টিকিট কেনার সুযোগ পাননি অনেকে। ফলে দিনভর সেখানে বিরাজ করছিলো দারুণ বিশৃংখলা।
মঙ্গলবার সকালের দিকে মহাখালী টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল, এনা পরিবহনের ময়মনসিংহ বাস কাউন্টারের দুই দিকে নারী ও পুরুষের আলাদা দুই লাইন। পুরুষের লাইনে অপেক্ষমান প্রায় দেড়শ’ যাত্রী। লাইন চলে গেছে টার্মিনালের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে উত্তর দিকে মূল টার্মিনাল ভবনের কাছাকাছি পর্যন্ত।
নারীদের লাইনেও প্রায় ৪০ জন দাঁড়ানো। টিকিটপ্রত্যাশী যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও ময়মনসিংহগামী এনা পরিবহনের বাসগুলো যেখানে দাঁড়ায়, সেই জায়গা ফাঁকা দেখা গেছে। যাত্রীরা জানালেন, আড়াই ঘন্টা অপেক্ষায় থেকে টিকেট পাওয়া যাচ্ছে। এই গরমে সিদ্ধ হয়েই বাসের টিকেট মিলছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে গাড়িগুলো ঢাকা ছেড়ে গিয়েছিল মহাসড়কে যানজটের কারণে সেগুলো যথাসময়ে ফিরতে পারছে না। তাই বাস সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে রাজধানীতে চলাচল করা গণপরিহনগুলো পরিণত হয়ে গেছে দুরপাল্লার বাসে। ভাড়াও আদায় করছে কয়েক গুণ।
মাহাখালী থেকে রাজধানীর সায়দাবাদ টার্মিনালে গিয়েও একই দৃশ্যপট। পদ্মা সেতু হবার পর থেকেই ঈদ যাত্রার অন্যতম ব্যস্ত টার্মিনাল এটি। সেখানেও ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য। সায়দাবাদ থেকে বরিশালগামী বাসে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। যাত্রী পরিপূর্ণ না হওয়ায় বাসটি ছাড়ছে না।
বাস ছাড়ার আগেই উপস্থিত সায়দাবাদ বাস মালিক সমিতি। বন্ধ করে দেয়া হয় বাসটির বরিশাল যাত্রা। ফেরত দেয়া হয় যাত্রীদের টিকেটের টাকা। ঈদে সিটি সার্ভিসের বাসগুলোর এমন দুরের পথে যাবার ঘটনা প্রথম নয়। আবার সব বাসই আদায় করছে বেশি ভাড়া।
এরই মাঝে দেখা গেলো কাউন্টারে টিকেট না মিললেও কয়েকজন বাড়তি দামে যাত্রীদের টিকেট দিচ্ছেন।
যদিও এসব অনিয়ম ঠেকাতে মাঠে ছিলো বিআরটিএর মোবাইল টিম। দুই পরিবহনকে জরিমানাও করা হয়। কিন্তু তাতে করে দিনভরও সমস্যা কাটেনি। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বিশৃংখল হয়েছে পরিবেশ।
ভিন্ন চিত্র দেখা গেলো রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে। দুপুর পর্যন্ত তেমন কোন চাপ ছিলো না। তবে যানজটের কারণে কাউন্টারের বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকা পৌছতে পারেনি। তাই একেকটি বাস ছেড়ে গেছে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে এক থেকে দেড় ঘন্টা দেরিতে।
ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে উত্তরের পথে দুর্ভোগে