শেষ মুহূর্তে উত্তরের পথে ঈদযাত্রা রূপ নিয়েছে দুর্ভোগে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে চন্দ্রা, এলেঙ্গা ও যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। ঘন্টার পর ঘন্টা পথে সড়কে আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের। যানজটের পাশাপাশি ভুগিয়েছে গাড়ি সঙ্কটও। নিরুপায় হয়ে ট্রাক, পিকআপ ও বাসের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নেমেছে হাজারও মানুষ।
মঙ্গলবার সকালের দিকে চন্দ্রা ও এলেঙ্গায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেলো, একদিকে যেমন রয়েছে মানুষের নির্বিঘ্নে বাড়ির ফেরার আনন্দ, অন্যদিকে যানজটে আটকে থাকার দুর্বিষহ চিত্র। সড়ক ও রেলপথে ঈদযাত্রার বিপরীতমুখী দৃশ্যপট যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে। তখনও যানজটে স্থবির যমুনার পূর্বপাড়।
টাঙ্গাইল শহর বাইপাস হয়ে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রী সাধারণের। বেলা যত বাড়ছে ততই যানজট ও গাড়ির দীর্ঘ সারি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ঢাকামুখী যানবাহনগুলো যাত্রী শূন্য।
সেখানে সকাল থেকেই পাল্টে যেতে থাকে সড়কের দৃশ্যপট। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদযাত্রা রীতিমতো দূর্ভোগে রূপ নেয়। সবচেয়ে বেশি যানজট যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত। অসহনীয় গরমে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় কাটাতে হয় যাত্রীদের। মূলত টোল আদায়ে ধীর গতির কারনেই এই ভোগান্তি।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে সেতুর ওপর বাস বিকল হয়ে যাওয়ার পর সেটি উদ্ধারে ৫ মিনিট টোল আদায় বন্ধ ছিল। পরে বিকল গাড়ি তাৎক্ষণিক অপসারণ করা হলেও অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে। বাস চালকরা জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু সেতু পাড় হয়ে সেতু পূর্ব গোল চত্বরে এসেই ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
চন্দ্রা আর এলেঙ্গাতেও ছিলো দীর্ঘ জট। এক পর্যায়ে ঢাকামুখী গাড়ি বন্ধ করে মহাসড়কের দুই পাশের চারলেনে শুধু উত্তরাঞ্চলের গাড়ি ছাড়া হয়। ফলে তিনটা নাগাদ কিছুটা সহনীয় হয় পরিস্থিতি। গাড়ির সংকটও ভুগিয়েছে ঘরমুখো মানুষকে। বাস না পেয়ে বহু মানুষ পিকআপ, ট্রাক ও গাড়ির ছাদে ঝুকিপূর্ণ যাত্রায় নামেন হাজারও মানুষ।
যা বন্ধে পুলিশের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। মহাসড়কে পরিবহণের খুব চাপ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে পরিবহনের অভাব থাকায় অনেকেই নিরুপায় হয়ে বিকল্প পরিবহন ভাড়া করছে। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সড়কের মধ্যে আরও বিশৃংখলা তৈরি কবে বলে মনে করেন তার।
উত্তরের পথে ঈদ যাত্রায় দূর্ভোগের এমন চিত্র প্রতি বছরের। ঈদের এক থেকে দুই দিন আগে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যাবার কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। তারপরেও পথের ভোগান্তি সহ্য করেও আপন ঠিকানায় ফেরে মানুষ। স্বপ্নেরা ফিরে যায় শেকড়ের টানে । প্রিয়জন আর আপন মাটিতে ঈদ কাটিয়ে ফিরবে চিরচেনা কর্মস্থলে।
জলবায়ু অভিযোজনে দেশের সফলতা তুলে ধরতে হচ্ছে ন্যাপ এক্সপো