ঝুঁকি জেনেও একমাত্র সন্তান স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদকে বৈমানিক হবার পথে সাধ্যমতো সাহায্য করেছেন বাবা ডা. আমান উল্লাহ। চিকিৎসক জীবনে অনেক মৃত্যু দেখা এই বাবা সন্তানের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। ছেলের দ্বিতীয় জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেডে তিনি এ কথা বলেন।
৩২ বছরের জীবনে এক যুগেরও বেশি সময় উড়েছেন আকাশে। আর ওড়া হবে না এই বীর বৈমানিকের। কিন্তু জীবনের শেষদিনটি পর্যন্ত নিজ বাহিনীকে দিয়ে গেলেন গর্বিত হবার উপলক্ষ।
পতেঙ্গার তেল রিফাইনারি ও ঘনবসতি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হলে বিপর্যয় ঘটতে পারে আর তা জানায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সেটিকে নিয়ে যান নদীতে।
শুক্রবার সকালে বিমান বাহিনীর বাশার ঘাটির প্যারেড গ্রাউন্ডে দেয়া হয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান। অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জানাজা।

দ্বিতীয় জানাজা শেষে নিহত স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদের বাবা ডা. আমান উল্লাহ বলেন, ‘আমার একমাত্র সন্তানকে আমি বিমান বাহিনীতে পাঠিয়েছিলাম।’ সেখানে জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও তিনি তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন দেশের জন্য আকাশে ওড়ার গর্বের কারণে, জানান তিনি।
কে না জানে পৃথিবীর সবচে ভারি বস্তুটি বাবার কাঁধে সন্তানের কফিন।
আসিম জাওয়াদের বাবা বলেন, তার চিকিৎসকের জীবনে তিনি অনেক লাশ দেখেছেন। অনেক লাশের ব্যবচ্ছেদ করতে হয়েছে তাকে। কিন্তু ছেলের এ মৃত্যু মেনে নেওয়া তার জন্য কষ্টের। বিমান দুর্ঘটনার খবর শোনার পরও তিনি আশা করে ছিলেন, হয়তো তার ছেলে বেঁচে যাবেন।
রাষ্ট্রীয় আয়োজনের ভাবগম্ভীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেও আসিমকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে ভেঙে পড়েন তার সহকর্মীরা।

ছাত্র জীবনে কখনও দ্বিতীয় না হওয়া আসিম, চীন ভারতসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ বা জাতিসংঘ মিশন; সবখানেই রাখেন কৃতিত্বের সাক্ষর। পেয়েছেন ‘মফিজ ট্রফি’, ‘বিমান বাহিনী প্রধান ট্রফি’ ও বাহিনী প্রধানের প্রশংসাপত্র।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন শেষে ফেরার পথে হঠাৎ আগুন লাগে বিমান বাহিনীর একটি ইয়াক-১৩০ যুদ্ধবিমানে। দুর্ঘটনায় পড়া প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটির কারণে যাতে বড় ধরনের ক্ষতি না হয়, সেজন্য দুই পাইলট সেটিকে সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে বিমানবন্দরের কাছের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যান। এরপর দুই বৈমানিক প্যারাশুট নিয়ে বেরুতে পারলেও স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদের মৃত্যু হয় এ দুর্ঘটনায়।
ইয়াকের দুর্ঘটনার ইতিহাস পুরোনো